গণভোটের হ্যাঁ সূচক রায় অনুযায়ী স্বায়ত্তশাসিত উত্তরা প্যাসিফিক প্রশাসনিক জোন গঠন সময়ের দাবি।


 


Map of Pundraland presidency zone. 

পুন্ড্র সভ্যতা বিধৌত বাংলার প্রাচীন রাজধানী বগুড়া হল ইন্দো‌ সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী ও উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার। এ ক্ষেত্রে মানচিত্রে চিহ্নিত ময়মনসিংহ জেলার উত্তরাংশকে ভাওয়ালগড় জেলা নামক নতূন জেলা গঠনে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। ম্যাপে চিহ্নিত যে রেখা বরাবর ময়মনসিংহ জেলা বিভক্ত দেখানো হচ্ছে সেটাকে সোজা পঁশ্চিম বরাবর টাংগাইল জেলার মধুপুর ও গোপালপুর এক‌ই জেলার এলেঙ্গা, ভুয়াপুর, ঘাটাইল এবং কালিহাতী জামালপুর জেলার সঙ্গে জুড়ে দিলে অথবা জামালপুরের সরিষাবাড়ী সহ টাংগাইলের ঐ সকল অঞ্চলসমূহ নিয়ে গোপালপুর জেলা গঠন করতে হবে যাতে ঐ অঞ্চলের বসবাসকারী জনগনের উন্নত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসা যাবে। প্রস্তাবিত সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথের প্রস্তাবিত রায়গঞ্জ জংশন হতে একটি রেল নেটওয়ার্ক দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় যমুনা রেল সেতুর বা একমাত্র যমুনা রেল টানেলের মাধ্যমে সরাসরি বর্তমান টাংগাইলের প্রস্তাবিত গোপালপুর জংশনে যুক্ত করা গেলে সহজ আন্তঃদেশীয় দ্বিপাক্ষিক সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে। বর্তমান যমুনা রেল সেতু সড়ক সেতুর ৩০০ মিটার দূরে নির্মিত হ‌ওয়ায় তা বড় বড় নৌযান চলাচলে দুটি সেতুর যেকোন জায়গায় পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বড় ধরনের দূর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করেছে। অথচ এর পরিবর্তে সিরাজগঞ্জের জেলার প্রস্তাবিত রায়গঞ্জ আর বর্তমান টাংগাইল জেলার মধ্যে ঐ রেলসেতু নির্মাণ করা হত তা এক‌ই সঙ্গে একটি রেল নেট‌ওয়ার্কের মাধ্যমে টা‌ঙ্গাইল-ঢাকা বিদ্যমান রেল পথের সঙ্গে যুক্ত হতে আবার বিদ্যমান ময়মনসিংহ অভিমূখী রেলপথকে যুক্ত করে উন্নত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আওতায় আন্তঃদেশীয় সংযোগ গড়ে তুলতে সহায়তা করতে। এতে এখন আর দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ করার প্রয়োজন হয় না। পুন্ড্র সভ্যতার পাদপীঠ বগুড়া যা রংপুর ও বর্তমান রাজশাহী বিভাগদ্বয় সহ দক্ষিণে কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা পর্যন্ত বিস্তৃত এবং পূর্বে জামালপুর ,শেরপুর, মানচিত্রে চিহ্নিত ময়মনসিংহ জেলার উত্তরাংশ, নেত্রকোনা জেলা পর্যন্ত তার সীমানা নিশ্চিতভাবে নির্ধারিত। আর নয় হোক জেলার নামে কোন বিভাগ, বরং একমাত্র প্রেসিডেন্সি বিভাগ গড়ে তোলা হোক সমৃদ্ধ সভ্যতার নামে। মানচিত্রে চিহ্নিত বর্তমান রাজশাহী বিভাগ, রংপুর বিভাগ, ময়মনসিংহ বিভাগ সমূহ বিলুপ্ত করে একত্রিতভাবে এর সঙ্গে ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া জেলা সমূহ যুক্ত করে এবং বগুড়াকে রাজধানী করে পুন্ড্র সভ্যতা বিধৌত পুন্ড্র প্রেসিডেন্সি বিভাগ গঠন করতে হবে। বর্তমান নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী উন্নত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা বাস্তবায়নের নিমিত্তে ও জুলাই জাতীয় সনদ-২৫ এর গণভোটের হ্যাঁ সূচক রায় এর উপর ভিত্তিতে বগুড়াকে রাজধানী করে পুন্ড্রভূমি যার ইংরেজী অর্থ হল পুন্ড্রল্যান্ড প্রেসিডেন্সি জোন গঠন করতে হবে। এই প্রেসিডেন্সি জোন বিমসটেক আন্তঃদেশীয় সড়ক ও রেল করিডোর বিদ্যমান থাকায় ভৌগলিক কারণে এই প্রেসিডেন্সি জোন বিমসটেকের কেন্দ্রীয় যোগাযোগের হাব হিসেবে ব্যাপকভাবে গুরুত্ব বহন করে। ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক রেল ট্রানজিট চুক্তি অন্তর্ভুক্তিমূলক বিমসটেক করিডোর গঠনে নিয়ামক ভূমিকা পালন করে এবং দেশ দুটির দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ইন্দোপ্যাসিফিক সহযোগিতা প্রসারিত করতে একমাত্র পথ হিসেবে কাঠামোগত রূপদান  করতে সমর্থ। চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থেকে  বিদ্যমান রেল  করিডোর টি কুষ্টিয়া, পাবনা, নাটোর, বগুড়ার সান্তাহার হয়ে প্রস্তাবিত সারিয়াকান্দি ও জামালপুরের মাদারগঞ্জর ডুয়েল গেজ ডাবল রেল লাইন কাম চার লেনের অত্যাধুনিক দ্বিতীয় যমুনা সেতু অতিক্রম করে জামালপুর-শেরপুর, ময়মনসিংহ জেলার উত্তরাংশে হয়ে এবং এক‌ই সঙ্গে ময়মনসিংহ -ব্রাম্মণবাড়িয়া রেল নেটওয়ার্কের একটি অংশ ময়মনসিংহের গৌরিপুর থেকে ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন রেলপথ নির্মাণের মাধ্যমে নেত্রকোনা জেলা, সুনামগঞ্জের শাল্লা, হবিগঞ্জের জলশুকা ও আজমিরীগঞ্জ, শাহজিবাজার হয়ে সরাসরি ঢাকা-সিলেট রেল নেটওয়ার্কের বাল্লা অভিমুখি  রেলপথের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।  এই রেল পথটি সিলেটের বিয়ানীবাজার অতিক্রম করে ভারতের আসামের  শিলচর অভিমুখী রেলপথের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে। যা আসামের শিলচর অতিক্রম করে মনিপুরে মোরে পর্যন্ত বিস্তৃত করা যাবে। তারপর মিয়ানমারে নির্মাণাধীন বিমসটেক আন্তর্জাতিক সড়ক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে থাইল্যান্ডে প্রবেশ করে ব্যাংকক পর্যন্ত যাতায়াত করা যাবে। প্রস্তাবিত এই পুন্ড্রল্যান্ড প্রেসিডেন্সি জোনে ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন আধুনিক রেল নেটওয়ার্ক স্থাপন এবং ছয় লেন বিশিষ্ট সড়ক নেটওয়ার্ক এর উন্নয়নের জন্য রাশিয়া, জাইকা, বিশ্বব্যাংক সহ নির্ভরযোগ্য দাতাগোষ্ঠীসমূহকে অন্ততঃ পক্ষে ৫০ বিলিয়ন ডলার অর্থ সংস্থানে ইন্ডিয়া, ইউএস ও জাপানকে উদ্যোগ নিতে হবে। বগুড়াতে অত্যাধুনিক   কোয়োড বিমান ঘাঁটি স্থাপন করতে হবে। প্রস্তাবিত পুন্ড্রল্যান্ডে সার্বিক সুরক্ষা ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে কোয়াড নিয়ন্ত্রিত নেক্সাস প্যাসিফিক আর্মি গঠনে উদ্যোগ নিতে হবে। তারেক জিয়া অনুগত বিএনপি নেতৃত্বাধীন প্রশাসনিক ব্যাবস্থা গড়ে তুলতে হবে যেখানে প্রেসিডেন্সি চীফ সেক্রেটারি উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যানগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন দ্বারা মনোনীত হবেন। তিনি সংশ্লিষ্ট উপজেলা চেয়ারম্যানগণের দ্বারা গঠিত প্রেসিডেন্সি জোন কাউন্সিলের অন্যান্য সদস্যগণের মধ্য থেকে অন্যান্য সকল পনের সদস্যবিশিষ্ট সাচিবিক পরিষদ গঠন করার ব্যাপক স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রেসিডেন্সি জোন গঠন করা যাবে।সোনাতলা ও বোনারপাড়ার মাঝে রেলপথের একটি অংশ গোবিন্দগঞ্জের উপর দিয়ে সরাসরি দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে। নেত্রকোনা থেকে একটি রেলপথ সরাসরি হবিগঞ্জের বাল্লা স্থলবন্দর পর্যন্ত যুক্ত করা যায়। এক‌ইভাবে জামালপুরের মাদারগঞ্জ থেকে একটি ছয় লেন বিশিষ্ট এক্সপ্রেস‌ওয়ে সরাসরি উত্তর ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা হয়ে নেত্রকোনা পর্যন্ত বিস্তৃত করা যায়। সেখান থেকে  এক‌ইভাবে ছয় লেন এক্সপ্রেস‌ওয়ের মাধ্যমে সুনামগঞ্জের শাল্লা,  হবিগঞ্জের জলশুকা ও আজমিরীগঞ্জ উপর দিয়ে  অত্র জেলার দাউদনগরে ঢাকা-সিলেট এক্সপ্রেস‌ওয়েযর বাল্লা অভিমুখি‌ সড়ক সংযোগ অংশ বরাবর বিস্তৃত করা যাবে। 



Map of Uttara pacific zone.

যেহেতু উত্তরা নামে নাটোরে উত্তরা গণভবন রয়েছে, তাই মহাভারতের বিরাট রাজার কন্যা উত্তরা নামে সম্মিলিত স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রশাসনিক জোন কে উত্তরা নামে অভিহিত করা যেতে পারে। প্রস্তাবিত পুন্ড্রল্যান্ড প্রেসিডেন্সি বিভাগ, ও  সিলেট বিভাগ মিলে ব্যাপক স্বায়ত্ত্বশাসিত উত্তরা প্যাসিফিক জোন গঠন করা যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট নর্দান প্যাসিফিক জোন আইনে অর্থ, পরিসেবা, স্থলবন্দর ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্বায়ত্ত্বশাসিত ক্ষমতা প্রদান করতে হবে। অত্র জোনে নাগরিককত্ত্ব কার্ডধারীদের বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোতে অবাধ ভ্রমণে বিশেষ অন অ্যারাইভাল পারমিট কার্ডের ব্যবস্থা করতে হবে। বিশ্বব্যাংক কর্তৃক ইতিমধ্যে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান কে দক্ষিণ এশিয়া থেকে স্থানান্তর করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ হিসেবে শ্রেনীভুক্ত করায় সার্ক এর কার্যকারিতা আর থাকতে পারে না। বরং সার্ককে সংশোধন করে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত উত্তরা প্যাসিফিক জোন, ইন্ডিয়া, ভুটান, পাকিস্তান, মিয়ানমার, থাইল্যান্ডে মিলে ইন্দো সার্ক রিজিয়ন প্রতিষ্ঠিত করতে হবে এবং এটাকে ইন্ডিয়ার সাংবিধানিকভাব যুক্ত করে ইন্দো সার্ক অ্যাক্টের আওতাধীন বহুমাত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সহযোগিতা সংস্থায় রূপান্তরিত করতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মত ইন্দো সার্কের নিজস্ব আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও মুদ্রা প্রবর্তন করতে হবে। গাইবান্ধার বোনারপাড়া রেল জংশন কে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক করে গড়ে তুলতে সরকার চাইলে ফুলছড়িঘাট আর জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাটের মধ্যে ব্রম্মপুত্র নদীর উপর ১৫-২০ কিলোমিটার ব্যাপী ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন উড়াল রেল পথের মত সর্বোচ্চ ১২০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে রেল সেতু নির্মাণ করতে পারে। কারণ নদীর গভীরতা অনেক কমে যাওয়ায় এবং সেখানে নদীর তলদেশে বালুর গভীর স্তর ও প্রবল চাপ থাকায় ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদীর গভীরতা আনতে খননকাজে কোন ফলাফল আনতে পারা যায় না। এক্ষেত্রে সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ প্রস্তাবিত দ্বিতীয় যমুনা সেতু শুধুমাত্র সড়ক পথের জন্য নির্মাণ করা যেতে পারে।

উপরোক্ত সকল মেগা প্রকল্প গুলোতে জাপান, কোরিয়া, রাশিয়া, ইউকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও চায়নাভিত্তিক কনসালটেন্ট দ্বারা ফিজিবিলিটি স্টাডি, প্রকল্পের নকশা প্রনয়ন ও জটিল নির্মাণ কাজগুলো সম্পন্ন করতে হবে যাতে অবকাঠামো গুলো মজবুত, আধুনিকতায় নান্দনিক ও টেকসই হয়। দেশীয় কোন স্বনামধন্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো দিয়ে প্রকল্পগুলোর মূল তত্ত্বাবধানে নিলে দুর্নীতি ত চরম আকারে বাড়বেই, বরং প্রকল্পগুলো কিছু দূরে গিয়ে আবার থমকে যাবে যা জনগণের দৈনন্দিন জীবন যাত্রায় ব্যাপক দূর্ভোগের সৃষ্টি করবে। কারণ বাংলাদেশে তথাকথিত সেই সকল কুচক্রী কারিগরি বিশেষজ্ঞ নিজেদের সীমাবদ্ধ জান ও আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে অক্ষম সেই সকল গতবাঁধা মস্তিষ্ক প্রসূত চিন্তাধারা নিয়ন্ত্রিত কর্মযজ্ঞ দ্বারা কোন মানসম্পন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের মত বগুড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অবশ্যই উচ্চ প্রযুক্তির অসাধারণ কারূকাজ খচিত দৃষ্টিনন্দন করে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে হবে। প্রস্তাবিত পুন্ড্র বা নর্দান জোনে উপরোক্ত রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে একটি আঞ্চলিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করিডোর গঠন করতে হবে যা উচ্চ প্রযুক্তির সমাহারে টেকস‌ই বগুড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কে ভৌগলিক গুরূত্বের বিবেচনায় আর্থিকভাবে লাভজনক করতে সহায়তা করবে। বর্তমান সরকার এই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ''জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর' নামকরণে যথাসার্থকভাবে তাৎপর্য প্রদর্শনে আধিকারাবদ্ধ পর্যায়ে উপনীত হবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল ও সংবিধানে গণভোটের বিধানের সপক্ষে উচ্চ আদালতের রায়ের কপি প্রদান করা হয়েছে। একটি দেশের তিন মাসব্যাপী নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন সেই দেশের সংবিধিবদ্ধ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলীতে সমন্বয়হীনতা ও আইনী কাঠামোতে দূর্বল প্রয়োগের পরিপ্রেক্ষিতকে প্রকারন্তরে প্রকাশ বলেই প্রতীয়মান হয়। বরং সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোতে সকল পর্যায়ের সীমাবদ্ধতা দূরীকরণে ব্যাপক সংষ্কার প্রক্রিয়া সাধন জরূরী হয়ে পড়েছে। প্রশাসন ব্যাপক লুটপাট ও দুর্বৃত্তপনা সহ নির্বাচিত সরকার নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের দরুন গণ‌অভ্যুথ্যানে পতিত হলে সেই নির্বাচিত সরকারের মেয়াদকাল পর্যন্ত মহামান্য রাষ্ট্রপতি বিদ্যমান সকল স্টেকহোল্ডারদের ঐক্যমতের ভিত্তিতে একপ্রকার ইজিএম হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করতে পারেন। নির্বাচিত সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্বৃত্তায়ন, ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক অস্বচ্ছতা সমূহকে কাঠগড়ায় নিতে হলে তার পরিসমাপ্তি ঘটবে দীর্ঘমেয়াদি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে। সবকিছুকে স্বচ্ছ পরিক্রমায় আনতে গেলে রিসেটের প্রাসঙ্গিকতা প্রকটিত হয়। দীর্ঘ মেয়াদি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যবস্থা দিয়েই নির্বাচিত সরকারের গৃহীত সমস্ত কার্যক্রম ব্যাপক বিশ্লেষণাত্মক পর্যবেক্ষণ দ্বারা মূল্যায়ন সম্পন্ন সম্ভব হয়। এটা সত্যি যে অনিয়মকে দূর করতে রিসেট প্রক্রিয়ার জন্য ওয়ান ইলেভেন ও আট-আট-চব্বিশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যাপারে নির্বাচিত সরকারকে সাবধানে হাঁটতে হবে, কেননা স্বায়ত্তশাসিত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে তত্ত্বাবধায়কের সরকারের এর প্রাসঙ্গিকতা কতটুকু তার যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ আছে। সরকার ও বিরোধীদল উভয়ের প্রতি জনগণের আর্জি হল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে সংবিধানে যুক্ত না করে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় অবাধ স্বায়ত্তশাসন বাস্তবায়ন দিকে আত্মনিয়োজিত করা, যেহেতু হাইকোর্টের অ্যাপিলেট রিভিউ কোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের রায়ের আবশ্যকতা না দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সংবিধানে যুক্ত করার বিধান দিয়েছে এবং জুলাই জাতীয় সনদ-২৫ সনদের চারটি প্রশ্লেগুলোর যেকোনো একটি বা ক্ষেত্রবিশেষে সবগুলোর উপর জনগণ গণভোটে 'হ্যাঁ' সূচকে জয়যুক্ত করেছে। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী অর্থাৎ ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী দ্বাদশ সংসদ ভেঙে যায় তখনই যখন ত্রয়োদশ সংসদে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের নির্বাচিত এমপি গণ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে। তাহলে ৫ই আগষ্ট ২০২৪ এর পর থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত দ্বাদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রম পুরোপুরি স্থগিত ছিল। সংসদ অধিবেশন স্থগিত থাকলে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক আদেশ জারি করা বৈধ বরং সংসদ ভেঙে দেওয়া টা ছিল স্রেফ গণ‌অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া জনগণকে শান্ত রাখার রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে সংসদ ভেঙে দেয়ার গেজেট দেশবাসীকে দেখান হয়েছিল যা আদৌ সাংবিধানিক ভাবে যথাযথ নয়। জামাত-এনসিপি জোটের ৭৭ জন সাংসদ সাংবিধানিক সংষ্কার পরিষদের শপথ নিয়েছে বিধায় ন্যূনতম এক তৃতীয়াংশ সাংসদ দ্বারা সাংবিধানিক সংষ্কার পরিষদ গঠন করা হয়ে গেছে। সংসদ নেতা কর্তৃক সাংবিধানিক সংষ্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার এক মাস সময়সীমা অতিক্রম করায় সংষ্কার পরিষদের আরো অন্যান্য সাংসদের সংষ্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার কোন সুযোগ আইনতঃ থাকে না। সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না হলে সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকে ১৮০ কার্যদিবস পরে কোন রাজনৈতিক দলের নোট অব ডিসেন্ট অগ্ৰাহ্য করে জুলাই জাতীয় সনদ-২৫ এর সকল ধারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে যুক্ত হয়ে যাবে। সংস্কার হতে হবে সেই সকল ইস্যুগুলোর উপর যা গণভোটের হ্যাঁ সূচক জয়ের দ্বারা জন‌-আকাঙ্খার ভিত্তি অর্জন করে সাংবিধানিক সংশোধনের জন্য সংসদীয় অনুমোদনের অনুসমর্থন লাভ করে। ত্রয়োদশ সংসদে জনগণের রায়ে বিজয়ী রাজনৈতিক দলের জুলাই জাতীয় সনদ-২৫ এ উল্লেখিত নোট অব ডিসেন্টগুলো বাস্তবায়ন করতে গেলে ১৭ ইং নভেম্বর ২০২৫ এ রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক আদেশের উপর কিছু সংশোধনী এনে সংসদের প্রথম অধিবেশনের ত্রিশ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদের তফসিলীতে যুক্ত করে আইনে পরিণত করতে হবে। গণভোটের রায় ইতিমধ্যে রাষ্ট্রপতির সেই সাংবিধানিক আদেশকে সংসদীয় অনুসমর্থন যোগ্য করে তূলেছে। অর্থাৎ সংসদীয় অনুমোদনের মাধ্যমে আনষ্ঠানিকতা ছাড়া আর কিছু এখানে বিকল্প করনীয় নেই। উচ্চ কক্ষের স্পিকার দেশের পার্লামেন্টারি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে গণ্য হবেন। থাইল্যান্ডের মতো তাকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে অধিকারী হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। উচ্চকক্ষের কার্য্যপ্রণালীতে এক‌ই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রদানের চূড়ান্ত অনুমোদন কারী কমিটি হিসেবে যুক্ত করা যেতে পারে। নিম্ন কক্ষের জাতীয় নির্বাচনের পিআর পদ্ধতিতে ফলাফল দ্বারা উচ্চ কক্ষ গঠন করার অর্থ হল নিম্ন কক্ষের প্রতিরূপ বা এক্সটেন্ডেট কমিটি ছাড়া আর কি হতে পারে। নাম সর্বস্ব নিম্ন কক্ষের প্রতিরূপ হিসেবে উচ্চকক্ষ গঠন করাকে অদূর ভবিষ্যতে এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে যে কেউ সর্বোচ্চ আদালতে প্রশ্ন দাখিল করলে তার অস্তিত্ব বিলীন হ‌ওয়া ও পথচলা থমকে যেতে পারে। নিম্ন কক্ষে নির্বাচনী ফলাফল প্রাদেশিক পরিষদে পিআর পদ্ধতিতে এবং কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চলে আসন ভিত্তিক সংখ্যানুপাতিকহারে প্রকাশ করতে হবে। অর্থাৎ আগামী জাতীয় নির্বাচন মিশ্র পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটানোর অর্থ হল রাষ্ট্র সংস্কার অপূর্ণ থেকে যাবে। জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল আইনসভার নির্বাচিত সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে গঠন করা শ্রেয়। সেই কাউন্সিলের প্রধান হিসেবে কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে গণ্য হবেন, এনসিসি-এর কার্যালয় হতে পারে বঙ্গভবন। এভাবেই প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাকে কমিয়ে কর্তিত ক্ষমতা বিকল্প হিসেবে জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিলের হাতে ন্যাস্ত করা যেতে পারে। কিন্তূ সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ১৯৯১ সালের ১৫-ই সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় অনুসারে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য কোনক্রমেই সম্ভব নয়। মোদ্দা কথা রাষ্ট্রপতির একক ক্ষমতা বৃদ্ধি এক্ষেত্রে আদৌ সম্ভব নয়। জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিলের কাঠামোর আওতায় তা বাস্তবায়নযোগ্য।


উত্তরা প্যাসিফিক জোনে উন্নত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা কর্তৃক সনাতন সংষ্কৃতি সংরক্ষণ ও সুরক্ষায়  বাস্তবায়নযোগ্য করণীয় পদক্ষেপসমূহঃ

বাংলাদেশের বাদবাকি অংশ থাকবে কেন্দ্রিয় বাংলাদেশ সরকারের অধীনে কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল হিসেবে । 

অ আ ক খ-এই চারটি মৌলীক ধ্বনির উপর গড়ে ওঠা মার্তৃভাষায় কথাবলা ও সাহিত্যকর্মচর্চা করতে ১৯৫২ সালের মহানভাষা  আন্দলনের হয়েছিল। বাংলা বাদেও অ আ ক খ-এই চারটি মৌলীক ধ্বনির উপর দড়ে ওঠা ভাসাগুলো হল হিন্দী, সংষ্কৃত, নেপালী। এই দেশে উল্লেধযোগ্য সংখ্যক হিন্দীভাষী বা বিহারী জনগোষ্ঠী বাস  করেন। অতএব ১৯৫২ সালের মহানভাষা  আন্দলনের সেই স্পিরিট থেকে একমাত্র অ আ ক খ-এই চারটি মৌলীক ধ্বনির ঊপর গড়ে ওঠা অক্ষরমালা দ্বারা মার্তৃভাষায় কথাবলা ও সাহিত্যকর্মচর্চার শর্তে হিন্দীকে সংবিধানের অন্যতম সহায়ক রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষায় সকল ধর্মের জন্য বাংলা শিক্ষা বইগুলোতে রামায়ন, মহাভারত ও গীতার বানী পড়ানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে। বাংলা ব্যকরনে আবশ্যিক হিসেবে সকল পর্যায়ের জনগনের জন্য সংস্কৃত পড়া বাধ্যতামূলক করতে হবে। বাংলা ও ইংরেজী ভার্সন শিধা কারিকুলামে ধর্ম শিক্ষা বাংলাতে পড়ানো আবশিয়ক করতে হবে।

ভারতের মূসলিম ওয়াকফ বোর্ডের মতো একটি সনাতন সংস্কৃতি সূরক্ষা ফাউন্ডেশন গঠন করতে হবে এবং হিন্দুদের সকল অর্পিত সম্পত্তি সেই ফাউন্ডেশনের হাতে সমর্পন করতে হবে। তাদের মাধ্যমেই পুরোহিতদের মাসিক ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। ফাউন্ডেশনটি অবশ্যই রাষ্ট্রীয় সংবিধিবদ্ধ হতে হবে।

পরিশেষে জগন্নাথদেবের রথযাত্রার উৎসবকে পালনবাদ বা পরমাত্মা তত্ত্বের জাতীয় উৎসব হিসেবে সংবিধানে স্বীকৃতি দেওয়া যেতে পারে। 

সাংস্কৃতিক বহুমাত্রিকতা সংবিধানে যুক্ত হলে তা শিল্প মালিক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য মানোন্নয়নে ও প্রযুক্তি গত উৎকর্ষ সাধনে বিকল্প বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। সেক্ষেত্রে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে মাতৃভাষা ও ইংরেজী পাশাপাশি তৃতীয় ও চতুর্থ ভাষাশিক্ষা হিসেবে স্প্যানিশ, জার্মান ও মান্দারিন ভাষায় ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার উদ্বুদ্ধ করা ও সরকারকে এ খাতে প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানে সংবিধান আইনগতভাবে বাধ্যকতা প্রদান করবে। প্রতিটি স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষায় বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রে অন্তত একাধিক অধ্যায়ে বাংলা হরফে হিন্দী ভাষার ব্যবহার ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার ব্যবস্থা রাখতে হবে। পরিশেষে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের নাম পরিবর্তন করে পিপলস ডেমোক্র্যাটিক অব বাংলাদেশ সংবিধানে প্রযুক্ত করতে হবে। জুলাই সনদ-২৫ হল একটি প্লাটফর্ম যেখানে সাংবিধানিক বিধিবিধান সমূহ নিখুঁত ভাবে অপারেট করতে পারবে। তারুণ্যের গ্ৰাফিতি ক্যানভাসের পরতে পরতে আগামীর বাংলাদেশের পথচলার রূপরেখা লিপিবদ্ধ হয়ে আছে এই জুলাই জাতীয় সনদে।

পুরাতন ও অচলায়তন ঘুনে ধরা প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে মেধা ও যোগ্যতার মানদন্ড দ্বারা প্রতিস্থাপিত করে সাম্য ও মানবিক মর্যাদা নীতি অনুসরণের প্লাটফরম হিসেবে কাজ করবে সংবিধানের তফসিলীতে যুক্ত হতে যাওয়া গণরায় ভিত্তিক জুলাই জাতীয় সনদ-২৫।

ঐশী জ্যোতিতে পথ অনুসরণ ও পূর্ণ আস্থা স্থাপন। এর মানে হল আল‌ কোর‌আনের একটি আয়াত অনুযায়ী মহান সর্বশক্তিমান ও পরম করুণাময় আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ হলেন সর্ব ধর্মের ঐশী জ্যোতি। তবে সনাতন ভগবত শাস্ত্র বিষ্ণু পুরাণমতে তাঁর‌ই নভিকমলে যুক্ত পদ্মফুল বিষ্ণু মায়া দ্বারা বিস্ফোরিত হলে প্রকট হন সৃষ্টিকর্তা ব্রম্মা যিনি আল-কোরআন মতে আল খালেক নামে অভিহিত। ইসলামের সৃষ্টিকর্তা মাবুদ আল্লাহ হলেন আল-কোরআন এ উল্লেখিত আহসানুল আল্লাহু খালেককিন। আয়াতটিতে মহান সৃষ্টিকর্তা হলেন তিনি এবং আরবি 'কিন' শব্দটির বাংলাতে আভিধানিক অর্থে সংখ্যাগত প্রকাশ হল বহুবচন। উভয় ধর্মীয় শাস্ত্রমতে পালনকর্তা হলেন দেব ও মনুষ্য সৃষ্টির আদি কারণ। এখানে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান যে পালন কর্তার মৌলিক বিভাগসমূহ হল-সৃষ্টি, স্থিতি ও সংহত্তা এবং তাদের সত্ত্বা অভিন্ন। এখানে সমন্বিতভাবে প্রতিপাদ্য বিষয় হল নানাত্ত্ব হতে এক ব্রম্মে মিলনস্বরূপ জগত সৃষ্টিকারী ও ঐশ্বর্য্যপ্রদাতা ঐশী জ্যোতির বরণযোগ্য ও পাপ বিনাশক তেজকে আমরা ধারণ করি যাতে তিনি আমাদের বুদ্ধিকে শুভ, গুণ, কর্ম ও স্বভাবের দিকে চালনা করেন। তাই একটি দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমাদের রাষ্ট্রীয় মূলনীতি ধর্মনিরপেক্ষতাকে প্রতিস্থাপন করে "ঐশী জ্যোতিতে পথ অনুসরণ ও পূর্ণ আস্থা স্থাপন"- এটা সংবিধানে যুক্ত করা উচিত। জুলাই জাতীয় সনদ-২৫ বাস্তবায়নে সাংবিধানিক অনুসমর্থন যোগ্য পেতে সংসদীয় অর্ডিনেন্স দ্বারা আয়োজিত গণভোটে হ্যাঁ সূচক বিজয়ী হ‌য়েছে। জুলাই গ্ৰাফিতি ক্যানভাসের আগামীর বাংলাদেশের পথরেখা হবে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে বৈষম্যহীন উন্নত বাংলাদেশের বিনির্মাণ। পুরাতন ও অচলায়তন ঘুনে ধরা প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে মেধা ও যোগ্যতার মানদন্ড দ্বারা প্রতিস্থাপিত করে সাম্য ও মানবিক মর্যাদা নীতি অনুসরণের প্লাটফরম হিসেবে কাজ করবে সংবিধানের তফসিলীতে যুক্ত হতে যাওয়া গণরায় ভিত্তিক জুলাই জাতীয় সনদ-২৫।

তাই প্রস্তাবিত স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রশাসনিক উত্তরা প্যাসিফিক জোনের নতুন সংবিধান প্রনয়ণ করা হলে সাংবিধানিক নিম্নলিখিত মাত্র চারটি মূলনীতি সমূহ থাকতে হবে।
(১) সাম্য, (২) মানবিক মর্যাদা,
(৩) আঞ্চলিক আর্থ-সামাজিকতার উন্নয়ন।
(৪) ঐশ্বরিক জ্যোতিতে পথ অনুসরণ।


সাম্য মূল নীতিতে যুক্ত থাকলে ধর্ম কর্মে স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি অথবা ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটি সংবিধানে মূলনীতি হিসেবে যুক্ত করা অর্থহীন। ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও তৎকালীন আঃলীগ নেতা মোঃ হানিফ মৃত্যুশয্যা অবস্থায় ধর্মকর্মে স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি কে সব রাজনৈতিক দলকে সাংবিধানিক মূলনীতি হিসেবে গ্ৰহণ করার যে আহ্বান দিয়েছিলেন সেটার হুবহু বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাংবিধানিক সংষ্কারের নিমিত্তে জাতীয় ঐক্যমত্য কমিটি কিভাবে জুলাই জাতীয় সনদ-২৫ এ সাংবিধানিক মূলনীতি হিসেবে গ্ৰহণ করেন তা অত্যন্ত রহস্যজনক ও সন্দেহের আবর্তে বিবেচনাযোগ্য যা জুলাই জাতীয় সনদ-২৫ চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ঢাকা সিটির সাবেক মেয়র প্রয়াত হানিফ কর্তৃক এই সাংবিধানিক মূলনীতি প্রস্তাব সুশীল সমাজের বিশিষ্ট জনদের নিকট তৎকালীন সময়ে প্রত্যাখাত ও অগ্ৰহণযোগ্য বলে রায়প্রাপ্ত হয়েছিল।

ভারতের মুসলিম ওয়াকফ বোর্ডের ন্যায় বাংলাদেশে সনাতন ঐতিহ্য ও সংষ্কৃতি সুরক্ষা বোর্ড গঠন করতে হবে। যে বোর্ডে সনাতন সম্প্রদায়ের বহুমাত্রিক কল্যাণ ও সুরক্ষা ইউনিট গঠন করে আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনপ্রাপ্ত আর্বিট্রেশন আইনি কাঠামোর আওতায় বিভিন্ন নির্যাতনের নিষ্পত্তি সম্পন্ন করা যেতে পারে। এই নিষ্পত্তিকে ট্রাইব্যুনাল ক্ষমতা  প্রদান করা হলে বিবাদী শুধুমাত্র হাইকোর্টে আপিল করতে পারবেন, এরকম বিধান যুক্ত করতে হবে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে স্পেশাল অ্যাক্টের আওতায় এই বোর্ড গঠন করতে হবে। বেদখল হওয়া হিন্দুদের বিভিন্ন দেবোত্তর সম্পত্তি উদ্ধার করা, সনাতন মঠ বা মন্দিরের পুরোহিত দের আদর্শ বেতন কাঠামোর আওতায় মাসিক বেতন ভাতাদি নিশ্চিতকরণ এবং মডেল মন্দির ও সনাতন সংস্কৃতি প্রশিক্ষণ সেন্টারসমূহের নির্মাণকাজ তদারকির দায়িত্ব বোর্ডের উপর ন্যাস্ত থাকবে। প্রতি তিন বছর অন্তর বোর্ডের কেন্দ্রীয় ও জেলা সেন্টার সমূহের পরিচালক ও সচিবগত সরাসরি নির্বাচিত হয়ে স্ব স্ব পদে অধিষ্ঠিত হবেন এবং বোর্ডের কার্যক্রমসমূহ নিয়ন্ত্রণ করবেন। বোর্ড পরিচালনার কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় লোকাল কাউন্সিল গঠন করতে হবে। বোর্ড সুষ্ঠু পরিচালনার বাংলাদেশ, আমেরিকার বিভিন্ন চ্যারিটি হিন্দু ফাউন্ডেশন ও ভারত সরকারের যৌথভাবে বাৎসরিক আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করতে হবে। অর্পিত শত্রু সম্পত্তি আইনে ভারতকে উল্লেখ করা হলে সেগুলো অবশ্যই ভারতের সম্পত্তি যা ভারত সরকার এখন আন্তর্জাতিক আদালতে দাবি করতে পারে। অত‌এব উপরোক্ত বিষয়গুলো নিয়ে আমরা অবশ্যই কাজ করব।

সরকারি দল হিসেবে বিএনপি যে জুলাই জাতীয় সনদ-২৫ এ সংসদ নির্বাচনের দ্বারা অর্জিত আসন সমূহের সংখ্যানুপাতিকহারে একশো জনের উচ্চকক্ষের সদস্য সমূহ নির্বাচিত করার দিয়েছে, সেটা শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চলের জন্য প্রযোজ্য। কেন্দ্রীয় শাসনের আওতামুক্ত স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রশাসনিক জোন কাঠামোতে কিভাবে উচ্চকক্ষের সদস্য গণ মনোনীত করা হবে সে ব্যাপারে কোন নির্দেশনা দেওয়া নেই। স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রশাসনিক জোন নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যানদের দ্বারা উন্নত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা কাঠামো গড়ে তোলা হলে এক‌ইভাবে নির্বাচিত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের সংখ্যানুপাতিকের দ্বারা উচ্চকক্ষ গঠন করতে হবে। সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হারে বা প্রাপ্ত আসন সংখ্যানুপাতিকে যেভাবে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চলের জন্য উচ্চকক্ষ গঠন করা হ‌উক না কেন তা সংসদ সদস্যগণ দ্বারা সংরক্ষিত আসনে মহিলা সাংসদ নির্বাচনের মত ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। সেটাকে কখনো উচ্চকক্ষ বলা যায় না। উচ্চকক্ষের কোন মেয়াদ থাকতে পারে না। সেটি চলমান একটি ব্যবস্থা। তবে উচ্চ কক্ষের প্রত্যেক সদস্যদের মেয়াদ হবে কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চলের জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদ এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসনিক জোনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান উন্নত স্থানীয় সরকার কাঠোমোর লেজিসলেটিভ মেয়াদের উপর। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংষ্কারের কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে প্রাদেশিক ব্যবস্থার চাইতে স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রশাসনিক জোন বাস্তবায়ন বেশি প্রয়োজন। ভারতেও দেখা গেছে প্রাদেশিক ব্যবস্থায় ডাবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে যে লাউ সেই কধু অবস্থা দেখা দেয়। স্বায়ত্তশাসিত জোন স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় অধিকতর স্বায়ত্তশাসনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের আওতামুক্ত স্থানীয় সরকারের প্রতি জনগণের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব। আমার প্রস্তাবিত গণভোটের হ্যাঁ সূচক রায় অনুযায়ী সংবিধানে উন্নত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা প্রযুক্ত করা হলে বাংলাদেশে উত্তরা প্যাসিফিক জোন গঠন করা সম্ভব। বাংলাদেশে কয়েকটি বিভাগ সমূহ নিয়ে ব্যাপক স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রশাসনিক জোন গঠন করা সম্ভব। পুনর্গঠিত রাজশাহী বিভাগ, প্রস্তাবিত বগুড়া বিভাগ, রংপুর বিভাগ, ময়মনসিংহ বিভাগ যেখানে ময়মনসিংহ ও টাংগাইল জেলা সমূহ কে উত্তর ও দক্ষিণ অংশকে বিভক্ত তাদের উত্তর অংশ- সমন্বিত করে উত্তরা প্যাসিফিক জোন গঠন করতে হবে। একমাত্র স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রশাসনিক জোন গঠনের মাধ্যমে উন্নত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা আর্থিক স্বায়ত্তশাসনের আওতায় নিয়ে আসা যাবে। প্রাদেশিক ব্যবস্থায় আর্থিক স্বায়ত্তশাসন খুবই দূর্বল হয়ে থাকে। মিশ্র পদ্ধতিতে আগামীর জাতীয় সংসদ থেকে সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা হলে স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রশাসনিক জোনে পিআর পদ্ধতিতে এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে আসন সংখ্যার ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হতে হবে। উচ্চকক্ষ গঠনের উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চল সহ এক‌ই সঙ্গে বা ভিন্ন অঞ্চলে পাশাপাশি প্রাদেশিক বা স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রশাসনিক জোন কাঠোমো গণতান্ত্রিক সংষ্কারের সুফলকে যথাযথভাবে রূপদান করা। পঞ্চদশ সংশোধনী অনুসারে বিদ্যমান সংসদ বহাল রেখে সংসদীয় মেয়াদের মধ্যে তদৃপরবর্তী জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে হয়। এক্ষেত্রে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে পুনর্বহাল করা আদৌ সম্ভব নয়। কারণ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট উচ্চ আদালতের রিভিউ পিটিশন রায়ে তা বাতিল না করে বরং বহাল রাখা হয়েছে। যেহেতু গণভোটে সম্পর্কিত রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক আদেশে অনেকগুলো বিষয়ের মধ্যে একটির প্রতি সমর্থন থাকলেই হ্যাঁ সূচক রায় বিবেচনা করে, তাই জুলাই জাতীয় সনদ-২৫ অনুযায়ী সাংবিধানিক সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পুনর্বহাল বাস্তবায়ন উচ্চ আদালতের রিভিউ পিটিশন দ্বারা বাধ্যবাধকতা প্রদান করে না। সুতরাং উপরোক্ত উপায়ে যথাযথ পর্যায়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংষ্কার বাস্তবায়ন হলেই রাজনৈতিক অঙ্গনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাসঙ্গিকতা আর বিদ্যমান থাকতে পারে না। কোন কোন ফেডারেল রাষ্ট্রে স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রশাসনিক জোনগুলোতে স্বতন্ত্র্য সংবিধান দ্বারা পরিচালিত হয়। অর্থাৎ যুক্তরাজ্যের মত ঐ সকল ফেডারেল রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় বিধান এক, প্রধান একাধিক এবং নিশান একাধিক। তাহলে তারুণ্যের রক্তের রঞ্জিত গ্ৰাফিতির ক্যানভাসে লিপিবদ্ধ জুলাই সনদের পরতে পরতে আগামীর বাংলাদেশের চাহিদা হচ্ছে বিগত ২০০৭ সাল থেকে চলে আসা দীর্ঘ বিশ বছর যাবত ব্যাপক বৈষম্য ও উন্নয়ন বঞ্চিত উত্তরাঞ্চলের জনগণের জীবন মানের সার্বিক অগ্ৰগতির জন্য কেন্দ্রীয় শাসিত ব্যবস্থা পরিবর্তন করার মাধ্যমে ফেডারেল সাংবিধানিক ব্যবস্থাতে প্রবেশ করতঃ জন আকাঙ্ক্ষিত উন্নত আর্থ-সামাজিকতার স্বপ্নকে রূপদান করা।

স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসনিক জোন সম্পর্কে অনেকের ধারণা নাও থাকতে পারে। ১৯৪৬ সালে তৎকালীন বৃটিশ সরকার অখন্ড ভারত কে ব্যাপক স্বায়ত্ত্বশাসিত A, B, C নামে তিনটি জোনে বিভক্ত করে ইন্ডিয়া ফেডারেশন গঠন করতে চেয়েছিল‌। কংগ্ৰূস ও মুসলিম লীগ উভয় রাজনৈতিক দল সমূহ তা প্রত্যাখ্যান করে। ১৯৪৭ সালে জুনে বৃটিশ পার্লামেন্টে ভারত ইউনিয়ন স্বাধীনতা পাস করানো হয়। ভারতে প্রাদেশিক সরকারকে কেন্দ্রীয় সরকার যেকোন অজুহাতে রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে ভেঙ্গে দিয়ে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি করতে পারে। জোন ভিত্তিক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে কেন্দ্রীয় সরকার যেকোন অজুহাতে ভেঙ্গে দিতে পারে না। জোন ভিত্তিক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জনগণের কাছে জবাবদিহিতা প্রদর্শনে বাধ্য কিন্তূ কেন্দ্রীয় সরকারের নিকট নয়।


ব্রিকস সম্মেলনে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কে ব্রিকস চেয়ারম্যান হিসেবে বিশেষ অতিথির আসনে সম্বোধন করে যোগদানের আমন্ত্রণপত্র পাঠানো জাতির জন্য গৌরবের বিষয়। বিমসটেকের আসন্ন সম্মেলন আয়োজনে স্বাগতিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সরকার প্রধান পদাধিকার বলে বিমসটেকের চেয়ারম্যান। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট, গণ প্রজাতন্ত্রী চীনের প্রেসিডেন্ট সহ আরেকটি পরাশক্তি বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বদান বাংলাদেশের জন্য অবিস্মরণীয় ঘটনা। এ বিষয়ে কিছু মিডিয়া দুরভিসন্ধিমূলক চক্রান্ত বাস্তবায়নের স্বার্থে যেভাবে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অভিপ্রায়ে নানারকম জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিরোধী বিষয়ে অপপ্রচার করছে তা বুঝতে কাউকে রকেট সায়েন্স সম্পর্কে অবগত হ‍ওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ বিমসটেকের নেতৃত্বদানকারী প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ব্রিকস সম্মেলনে যোগদান I করছেন যেহেতু বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য নয়। ইন্ডিয়া, ভুটান, বাংলাদেশের প্রস্তাবিত উন্নত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা বিষয়ক গণভোটের হ্যাঁ সূচক রায় অনুযায়ী প্রস্তাবিত পুন্ড্রল্যান্ড বা উত্তরা প্যাসিফিক স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রশাসনিক জোন, মিয়ানমার এবং থাইল্যান্ড মিলে মুক্ত বহূমাত্রিক সহযোগিতা ভিত্তিক অঞ্চল বিমসটেক প্যাসিফিক গঠন করতে হবে। বিমসটেক প্যাসিফিক কাউন্সিলে একজন চেয়ারম্যান ও এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি পদ সৃজন করে এই আঞ্চলিক সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল দেশের সরকার প্রধান পদাধিকার বলে কাউন্সিল সদস্য হিসেবে কাজ করবেন। প্রস্তাবিত পুন্ড্রল্যান্ড বা উত্তরা প্যাসিফিক কে বিমসটেক প্যাসিফিক এর প্রেসিডেন্সি বিভাগ হিসেবে গঠন করে বগুড়া জেলা কে প্রস্তাবিত বিমসটেক প্যাসিফিকের রাজধানী হিসেবে গন্য করতে হবে। প্রস্তাবিত বিমসটেক প্যাসিফিকের চেয়ারম্যান হিসেবে একজন উদ্যমশীল ও কর্মঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মান্যবর জনাব তারেক জিয়া বা রহমানকে আগামী টানা পাঁচ ও দশ বছরের জন্য প্রস্তাবিত বিমসটেক প্যাসিফিকের চেয়ারম্যান হিসেবে চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করা গেলে তার নেতৃত্বে অত্র অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বৈপ্লবিক অগ্ৰগতি দৃশ্যমান হবে।


(ক) বগুড়া, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, ন‌ওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জ মিলে বাংলাদেশের একমাত্র বগুড়া প্রেসিডেন্সি বিভাগ গঠন করতে হবে। প্রস্তাবনা অনুযায়ী ন‌ওগাঁ থেকে রেলপথ নির্মাণের মাধ্যমে রানীনগর, মান্দা-নিয়ামতপুর হয়ে সরাসরি চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে সোনাদিয়া মসজিদ স্থলবন্দর পর্যন্ত বিদ্যমান রেল নেটওয়ার্ক এর সাথে যুক্ত করতে হবে। অত্র বিষয়ে ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ন‌ওগাঁয় এক নির্বাচনী জনসভায় আর্থ-সামাজিকতার উন্নয়নের স্বার্থে একটি নতুন রেলপথ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জে যেহেতু একটি দ্বিপাক্ষিক আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর রয়েছে, বগুড়া বিভাগ মূল উদ্দেশ্যই হতে হবে পূর্ব-পঁশ্চিম আন্তর্জাতিক সীমান্তের মধ্যে সংযোগ গড়ে তোলা এবং প্রেসিডেন্সি বিভাগ হিসেবে বগুড়া বিভাগ গঠনের উদ্দেশ্যে হল উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বগুড়া বিভাগ সম্পূর্ণ উত্তরাঞ্চল জোনের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নকে নিয়ন্ত্রণে করার গণভোটের হ্যাঁ সূচক রায় অনুযায়ী উন্নত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আওতায় প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা নিতে সক্ষমতা লাভ করা।

(
খ) রাজশাহী, নাটোর, পাবনা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ জেলা সমূহ নিয়ে বর্তমান রাজশাহী বিভাগ পুন‍ঃ সন্নিবেশিত করে গড়ে তুলতে হবে।

বগুড়া হল প্রাচীন জনপদ পুন্ড্র সভ্যতা বিধৌত সমৃদ্ধ পুন্ড্রভূমি বা পুন্ড্রল্যান্ডের রাজধানী এবং এই সর্বকালের বিস্ময় এই পুন্ড্রভূমির স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রশাসনিক কাঠামো উত্তরের দিকে থেকে রংপুর বিভাগ ও পূর্বে ময়মনসিংহ বিভাগের নেত্রকোনা জেলা পর্যন্ত বিস্তৃত। পুন্ড্র সভ্যতার অংশ হিসেবে টাংগাইলের গোপালপুর ও মধুপুর, এক‌ই জেলার এলেঙ্গা, ভুয়াপুর, ঘাটাইল এবং কালিহাতী জামালপুর জেলার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে অথবা জামালপুরের সরিষাবাড়ী সহ টাংগাইলের ঐ সকল অঞ্চলসমূহ নিয়ে গোপালপুর জেলা গঠন করতে হবে এবং মানচিত্রে চিহ্নিত ময়মনসিংহ জেলাকে দুই ভাগে বিভক্ত করে একটি অংশ পুন্ড্রভূমির স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রশাসনিক জোনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং দক্ষিণের অংশ ঢাকা বিভাগের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। সমৃদ্ধ পুন্ড্র সভ্যতার রাজধানী হিসেবে বগুড়া শব্দের বাংলা আভিধানিক অর্থ হল মায়ার ফাঁদ বা
a platform for emancipation of intellect.




Post a Comment

Previous Post Next Post