Map of Pundra Presidency division.
পুন্ড্র সভ্যতা বিধৌত বাংলার প্রাচীন রাজধানী বগুড়া হল ইন্দো সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী ও উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার। বগুড়া তে একটি বেসরকারি কিন্তূ বাংলাদেশে প্রথম নিজস্ব ক্যাম্পাসে ২০ তলা একাডেমীক ভবন সম্পন্ন পুন্ড্র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। পুন্ড্র সভ্যতার পাদপীঠ বগুড়া যা রংপুর ও বর্তমান রাজশাহী বিভাগদ্বয় সহ দক্ষিণে কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা পর্যন্ত বিস্তৃত এবং পূর্বে জামালপুর ,শেরপুর, মানচিত্রে চিহ্নিত ময়মনসিংহ জেলার উত্তরাংশ, নেত্রকোনা জেলা পর্যন্ত তার সীমানা নিশ্চিতভাবে নির্ধারিত। আর নয় হোক জেলার নামে কোন বিভাগ, বরং একমাত্র প্রেসিডেন্সি বিভাগ গড়ে তোলা হোক সমৃদ্ধ সভ্যতার নামে। মানচিত্রে চিহ্নিত বর্তমান রাজশাহী বিভাগ, রংপুর বিভাগ, ময়মনসিংহ বিভাগ সমূহ বিলুপ্ত করে একত্রিতভাবে এর সঙ্গে ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া জেলা সমূহ যুক্ত করে এবং বগুড়াকে রাজধানী করে পুন্ড্র সভ্যতা বিধৌত পুন্ড্র প্রেসিডেন্সি বিভাগ গঠন করতে হবে। বর্তমান নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী উন্নত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা বাস্তবায়নের নিমিত্তে ও জুলাই জাতীয় সনদ-২৫ এর গণভোটের হ্যাঁ সূচক রায় এর উপর ভিত্তিতে বগুড়াকে রাজধানী করে পুন্ড্রভূমি যার ইংরেজী অর্থ হল পুন্ড্রল্যান্ড প্রেসিডেন্সি জোন গঠন করতে হবে। এই প্রেসিডেন্সি জোন বিমসটেক আন্তঃদেশীয় সড়ক ও রেল করিডোর বিদ্যমান থাকায় ভৌগলিক কারণে এই প্রেসিডেন্সি জোন বিমসটেকের কেন্দ্রীয় যোগাযোগের হাব হিসেবে ব্যাপকভাবে গুরুত্ব বহন করে। ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক রেল ট্রানজিট চুক্তি অন্তর্ভুক্তিমূলক বিমসটেক করিডোর গঠনে নিয়ামক ভূমিকা পালন করে এবং দেশ দুটির দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ইন্দোপ্যাসিফিক সহযোগিতা প্রসারিত করতে একমাত্র পথ হিসেবে কাঠামোগত রূপদান করতে সমর্থ। চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থেকে বিদ্যমান রেল করিডোর টি কুষ্টিয়া, পাবনা, নাটোর, বগুড়ার সান্তাহার হয়ে প্রস্তাবিত সারিয়াকান্দি ও জামালপুরের মাদারগঞ্জর ডুয়েল গেজ ডাবল রেল লাইন কাম চার লেনের অত্যাধুনিক দ্বিতীয় যমুনা সেতু অতিক্রম করে জামালপুর-শেরপুর, ময়মনসিংহ জেলার উত্তরাংশে হয়ে এবং একই সঙ্গে ময়মনসিংহ -ব্রাম্মণবাড়িয়া রেল নেটওয়ার্কের একটি অংশ ময়মনসিংহের গৌরিপুর থেকে ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন রেলপথ নির্মাণের মাধ্যমে নেত্রকোনা জেলা, সুনামগঞ্জের শাল্লা, হবিগঞ্জের জলশুকা ও আজমিরীগঞ্জ, শাহজিবাজার হয়ে সরাসরি ঢাকা-সিলেট রেল নেটওয়ার্কের বাল্লা অভিমুখি রেলপথের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এই রেল পথটি সিলেটের বিয়ানীবাজার অতিক্রম করে ভারতের আসামের শিলচর অভিমুখী রেলপথের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে। যা আসামের শিলচর অতিক্রম করে মনিপুরে মোরে পর্যন্ত বিস্তৃত করা যাবে। তারপর মিয়ানমারে নির্মাণাধীন বিমসটেক আন্তর্জাতিক সড়ক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে থাইল্যান্ডে প্রবেশ করে ব্যাংকক পর্যন্ত যাতায়াত করা যাবে। প্রস্তাবিত এই পুন্ড্রল্যান্ড প্রেসিডেন্সি জোনে ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন আধুনিক রেল নেটওয়ার্ক স্থাপন এবং ছয় লেন বিশিষ্ট সড়ক নেটওয়ার্ক এর উন্নয়নের জন্য রাশিয়া, জাইকা, বিশ্বব্যাংক সহ নির্ভরযোগ্য দাতাগোষ্ঠীসমূহকে অন্ততঃ পক্ষে ৫০ বিলিয়ন ডলার অর্থ সংস্থানে ইন্ডিয়া, ইউএস ও জাপানকে উদ্যোগ নিতে হবে। বগুড়াতে অত্যাধুনিক কোয়োড বিমান ঘাঁটি স্থাপন করতে হবে। প্রস্তাবিত পুন্ড্রল্যান্ডে সার্বিক সুরক্ষা ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে কোয়াড নিয়ন্ত্রিত নেক্সাস প্যাসিফিক আর্মি গঠনে উদ্যোগ নিতে হবে। তারেক জিয়া অনুগত বিএনপি নেতৃত্বাধীন প্রশাসনিক ব্যাবস্থা গড়ে তুলতে হবে যেখানে প্রেসিডেন্সি চীফ সেক্রেটারি উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যানগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন দ্বারা মনোনীত হবেন। তিনি সংশ্লিষ্ট উপজেলা চেয়ারম্যানগণের দ্বারা গঠিত প্রেসিডেন্সি জোন কাউন্সিলের অন্যান্য সদস্যগণের মধ্য থেকে অন্যান্য সকল পনের সদস্যবিশিষ্ট সাচিবিক পরিষদ গঠন করার ব্যাপক স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রেসিডেন্সি জোন গঠন করা যাবে।সোনাতলা ও বোনারপাড়ার মাঝে রেলপথের একটি অংশ গোবিন্দগঞ্জের উপর দিয়ে সরাসরি দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে। নেত্রকোনা থেকে একটি রেলপথ সরাসরি হবিগঞ্জের বাল্লা স্থলবন্দর পর্যন্ত যুক্ত করা যায়। একইভাবে জামালপুরের মাদারগঞ্জ থেকে একটি ছয় লেন বিশিষ্ট এক্সপ্রেসওয়ে সরাসরি উত্তর ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা হয়ে নেত্রকোনা পর্যন্ত বিস্তৃত করা যায়। সেখান থেকে একইভাবে ছয় লেন এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে সুনামগঞ্জের শাল্লা, হবিগঞ্জের জলশুকা ও আজমিরীগঞ্জ উপর দিয়ে অত্র জেলার দাউদনগরে ঢাকা-সিলেট এক্সপ্রেসওয়েযর বাল্লা অভিমুখি সড়ক সংযোগ অংশ বরাবর বিস্তৃত করা যাবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল ও সংবিধানে গণভোটের বিধানের সপক্ষে উচ্চ আদালতের রায়ের কপি প্রদান করা হয়েছে। একটি দেশের তিন মাসব্যাপী নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন সেই দেশের সংবিধিবদ্ধ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলীতে সমন্বয়হীনতা ও আইনী কাঠামোতে দূর্বল প্রয়োগের পরিপ্রেক্ষিতকে প্রকারন্তরে প্রকাশ বলেই প্রতীয়মান হয়। বরং সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোতে সকল পর্যায়ের সীমাবদ্ধতা দূরীকরণে ব্যাপক সংষ্কার প্রক্রিয়া সাধন জরূরী হয়ে পড়েছে। প্রশাসন ব্যাপক লুটপাট ও দুর্বৃত্তপনা সহ নির্বাচিত সরকার নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের দরুন গণঅভ্যুথ্যানে পতিত হলে সেই নির্বাচিত সরকারের মেয়াদকাল পর্যন্ত মহামান্য রাষ্ট্রপতি বিদ্যমান সকল স্টেকহোল্ডারদের ঐক্যমতের ভিত্তিতে একপ্রকার ইজিএম হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করতে পারেন। নির্বাচিত সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্বৃত্তায়ন, ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক অস্বচ্ছতা সমূহকে কাঠগড়ায় নিতে হলে তার পরিসমাপ্তি ঘটবে দীর্ঘমেয়াদি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে। সবকিছুকে স্বচ্ছ পরিক্রমায় আনতে গেলে রিসেটের প্রাসঙ্গিকতা প্রকটিত হয়। দীর্ঘ মেয়াদি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যবস্থা দিয়েই নির্বাচিত সরকারের গৃহীত সমস্ত কার্যক্রম ব্যাপক বিশ্লেষণাত্মক পর্যবেক্ষণ দ্বারা মূল্যায়ন সম্পন্ন সম্ভব হয়। এটা সত্যি যে অনিয়মকে দূর করতে রিসেট প্রক্রিয়ার জন্য ওয়ান ইলেভেন ও আট-আট-চব্বিশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যাপারে নির্বাচিত সরকারকে সাবধানে হাঁটতে হবে, কেননা স্বায়ত্তশাসিত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে তত্ত্বাবধায়কের সরকারের এর প্রাসঙ্গিকতা কতটুকু তার যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ আছে। সরকার ও বিরোধীদল উভয়ের প্রতি জনগণের আর্জি হল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে সংবিধানে যুক্ত না করে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় অবাধ স্বায়ত্তশাসন বাস্তবায়ন দিকে আত্মনিয়োজিত করা, যেহেতু হাইকোর্টের অ্যাপিলেট রিভিউ কোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের রায়ের আবশ্যকতা না দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সংবিধানে যুক্ত করার বিধান দিয়েছে এবং জুলাই জাতীয় সনদ-২৫ সনদের চারটি প্রশ্লেগুলোর যেকোনো একটি বা ক্ষেত্রবিশেষে সবগুলোর উপর জনগণ গণভোটে 'হ্যাঁ' সূচকে জয়যুক্ত করেছে। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী অর্থাৎ ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী দ্বাদশ সংসদ ভেঙে যায় তখনই যখন ত্রয়োদশ সংসদে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের নির্বাচিত এমপি গণ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে। তাহলে ৫ই আগষ্ট ২০২৪ এর পর থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত দ্বাদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রম পুরোপুরি স্থগিত ছিল। সংসদ অধিবেশন স্থগিত থাকলে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক আদেশ জারি করা বৈধ বরং সংসদ ভেঙে দেওয়া টা ছিল স্রেফ গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া জনগণকে শান্ত রাখার রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে সংসদ ভেঙে দেয়ার গেজেট দেশবাসীকে দেখান হয়েছিল যা আদৌ সাংবিধানিক ভাবে যথাযথ নয়। জামাত-এনসিপি জোটের ৭৭ জন সাংসদ সাংবিধানিক সংষ্কার পরিষদের শপথ নিয়েছে বিধায় ন্যূনতম এক তৃতীয়াংশ সাংসদ দ্বারা সাংবিধানিক সংষ্কার পরিষদ গঠন করা হয়ে গেছে। সংসদ নেতা কর্তৃক সাংবিধানিক সংষ্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার এক মাস সময়সীমা অতিক্রম করায় সংষ্কার পরিষদের আরো অন্যান্য সাংসদের সংষ্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার কোন সুযোগ আইনতঃ থাকে না। সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না হলে সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকে ১৮০ কার্যদিবস পরে কোন রাজনৈতিক দলের নোট অব ডিসেন্ট অগ্ৰাহ্য করে জুলাই জাতীয় সনদ-২৫ এর সকল ধারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে যুক্ত হয়ে যাবে। সংস্কার হতে হবে সেই সকল ইস্যুগুলোর উপর যা গণভোটের হ্যাঁ সূচক জয়ের দ্বারা জন-আকাঙ্খার ভিত্তি অর্জন করে সাংবিধানিক সংশোধনের জন্য সংসদীয় অনুমোদনের অনুসমর্থন লাভ করে। ত্রয়োদশ সংসদে জনগণের রায়ে বিজয়ী রাজনৈতিক দলের জুলাই জাতীয় সনদ-২৫ এ উল্লেখিত নোট অব ডিসেন্টগুলো বাস্তবায়ন করতে গেলে ১৭ ইং নভেম্বর ২০২৫ এ রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক আদেশের উপর কিছু সংশোধনী এনে সংসদের প্রথম অধিবেশনের ত্রিশ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদের তফসিলীতে যুক্ত করে আইনে পরিণত করতে হবে। গণভোটের রায় ইতিমধ্যে রাষ্ট্রপতির সেই সাংবিধানিক আদেশকে সংসদীয় অনুসমর্থন যোগ্য করে তূলেছে। অর্থাৎ সংসদীয় অনুমোদনের মাধ্যমে আনষ্ঠানিকতা ছাড়া আর কিছু এখানে বিকল্প করনীয় নেই। উচ্চ কক্ষে সদস্যগণ জেলা পরিষদে স্থানীয় সরকার কর্তৃক নির্ধাচিত সদস্যগণের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানগণ নির্বাচিত হন। একই পদ্ধতিতে বাংলাদেশের সাবেক বৃহত্তর ১৯ জেলা থেকে একজন করে ১৯ জনকে নির্বাচিত করা যেতে পারে। সমান সংখ্যক অংশে নিয়ে একদিকে উত্তরবঙ্গ প্রাদেশিক অঞ্চল থেকে ৮ জন এবং কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চল থেকে ৩ জন নিম্ন কক্ষের সংসদ কর্তৃক অনুমোদন দ্বারা নির্বাচিত করা যেতে পারে। এভাবে ৩০ জন নির্বাচিত সদস্য দ্বারা উচ্চ কক্ষ গঠন করা যেতে পারে। উচ্চ কক্ষের স্পিকার দেশের পার্লামেন্টারি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে গণ্য হবেন। থাইল্যান্ডের মতো তাকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে অধিকারী হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। উচ্চকক্ষের কার্য্যপ্রণালীতে একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রদানের চূড়ান্ত অনুমোদন কারী কমিটি হিসেবে যুক্ত করা যেতে পারে। নিম্ন কক্ষের জাতীয় নির্বাচনের পিআর পদ্ধতিতে ফলাফল দ্বারা উচ্চ কক্ষ গঠন করার অর্থ হল নিম্ন কক্ষের প্রতিরূপ বা এক্সটেন্ডেট কমিটি ছাড়া আর কি হতে পারে। নাম সর্বস্ব নিম্ন কক্ষের প্রতিরূপ হিসেবে উচ্চকক্ষ গঠন করাকে অদূর ভবিষ্যতে এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে যে কেউ সর্বোচ্চ আদালতে প্রশ্ন দাখিল করলে তার অস্তিত্ব বিলীন হওয়া ও পথচলা থমকে যেতে পারে। নিম্ন কক্ষে নির্বাচনী ফলাফল প্রাদেশিক পরিষদে পিআর পদ্ধতিতে এবং কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চলে আসন ভিত্তিক সংখ্যানুপাতিকহারে প্রকাশ করতে হবে। অর্থাৎ আগামী জাতীয় নির্বাচন মিশ্র পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটানোর অর্থ হল রাষ্ট্র সংস্কার অপূর্ণ থেকে যাবে। জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল আইনসভার নির্বাচিত সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে গঠন করা শ্রেয়। সেই কাউন্সিলের প্রধান হিসেবে কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে গণ্য হবেন, এনসিসি-এর কার্যালয় হতে পারে বঙ্গভবন। এভাবেই প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাকে কমিয়ে কর্তিত ক্ষমতা বিকল্প হিসেবে জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিলের হাতে ন্যাস্ত করা যেতে পারে। কিন্তূ সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ১৯৯১ সালের ১৫-ই সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় অনুসারে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য কোনক্রমেই সম্ভব নয়। মোদ্দা কথা রাষ্ট্রপতির একক ক্ষমতা বৃদ্ধি এক্ষেত্রে আদৌ সম্ভব নয়। জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিলের কাঠামোর আওতায় তা বাস্তবায়নযোগ্য।
উত্তরা প্যাসিফিক জোনে উন্নত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা কর্তৃক সনাতন সংষ্কৃতি সংরক্ষণ ও সুরক্ষায় বাস্তবায়নযোগ্য করণীয় পদক্ষেপসমূহঃ
বাংলাদেশের বাদবাকি অংশ থাকবে কেন্দ্রিয় বাংলাদেশ সরকারের অধীনে কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল হিসেবে ।
অ আ ক খ-এই চারটি মৌলীক ধ্বনির উপর গড়ে ওঠা মার্তৃভাষায় কথাবলা ও সাহিত্যকর্মচর্চা করতে ১৯৫২ সালের মহানভাষা আন্দলনের হয়েছিল। বাংলা বাদেও অ আ ক খ-এই চারটি মৌলীক ধ্বনির উপর দড়ে ওঠা ভাসাগুলো হল হিন্দী, সংষ্কৃত, নেপালী। এই দেশে উল্লেধযোগ্য সংখ্যক হিন্দীভাষী বা বিহারী জনগোষ্ঠী বাস করেন। অতএব ১৯৫২ সালের মহানভাষা আন্দলনের সেই স্পিরিট থেকে একমাত্র অ আ ক খ-এই চারটি মৌলীক ধ্বনির ঊপর গড়ে ওঠা অক্ষরমালা দ্বারা মার্তৃভাষায় কথাবলা ও সাহিত্যকর্মচর্চার শর্তে হিন্দীকে সংবিধানের অন্যতম সহায়ক রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন।
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষায় সকল ধর্মের জন্য বাংলা শিক্ষা বইগুলোতে রামায়ন, মহাভারত ও গীতার বানী পড়ানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে। বাংলা ব্যকরনে আবশ্যিক হিসেবে সকল পর্যায়ের জনগনের জন্য সংস্কৃত পড়া বাধ্যতামূলক করতে হবে। বাংলা ও ইংরেজী ভার্সন শিধা কারিকুলামে ধর্ম শিক্ষা বাংলাতে পড়ানো আবশিয়ক করতে হবে।
ভারতের মূসলিম ওয়াকফ বোর্ডের মতো একটি সনাতন সংস্কৃতি সূরক্ষা ফাউন্ডেশন গঠন করতে হবে এবং হিন্দুদের সকল অর্পিত সম্পত্তি সেই ফাউন্ডেশনের হাতে সমর্পন করতে হবে। তাদের মাধ্যমেই পুরোহিতদের মাসিক ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। ফাউন্ডেশনটি অবশ্যই রাষ্ট্রীয় সংবিধিবদ্ধ হতে হবে।
পরিশেষে জগন্নাথদেবের রথযাত্রার উৎসবকে পালনবাদ বা পরমাত্মা তত্ত্বের জাতীয় উৎসব হিসেবে সংবিধানে স্বীকৃতি দেওয়া যেতে পারে।
সাংস্কৃতিক বহুমাত্রিকতা সংবিধানে যুক্ত হলে তা শিল্প মালিক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য মানোন্নয়নে ও প্রযুক্তি গত উৎকর্ষ সাধনে বিকল্প বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। সেক্ষেত্রে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে মাতৃভাষা ও ইংরেজী পাশাপাশি তৃতীয় ও চতুর্থ ভাষাশিক্ষা হিসেবে স্প্যানিশ, জার্মান ও মান্দারিন ভাষায় ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার উদ্বুদ্ধ করা ও সরকারকে এ খাতে প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানে সংবিধান আইনগতভাবে বাধ্যকতা প্রদান করবে। প্রতিটি স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষায় বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রে অন্তত একাধিক অধ্যায়ে বাংলা হরফে হিন্দী ভাষার ব্যবহার ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার ব্যবস্থা রাখতে হবে। পরিশেষে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের নাম পরিবর্তন করে পিপলস ডেমোক্র্যাটিক অব বাংলাদেশ সংবিধানে প্রযুক্ত করতে হবে। জুলাই সনদ-২৫ হল একটি প্লাটফর্ম যেখানে সাংবিধানিক বিধিবিধান সমূহ নিখুঁত ভাবে অপারেট করতে পারবে। তারুণ্যের গ্ৰাফিতি ক্যানভাসের পরতে পরতে আগামীর বাংলাদেশের পথচলার রূপরেখা লিপিবদ্ধ হয়ে আছে এই জুলাই জাতীয় সনদে।


Post a Comment