সনাতন সংষ্কৃতি বাঁচাতে গণভোটে হাঁ সূচক ভোটে জয়যুক্ত করুন।





১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। কিন্তু পাকিস্তানী কায়দায় গত ৫৪ বছর ধরে চলে আসা পুরাতন, অচলায়তন এবং ঘুনধরা পদ্ধতিতর প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়ে আসছিল। আমাদের জাতীয় জীবনের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে ওতোপ্রত ভাবে প্রযুক্ত নীতিগত প্রশাসনিক সনদ বা পদ্ধতি কখনো প্রনয়ণ করা হয় নি। আজকে গোটা জাতি মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সংসদীয় অর্ডিন্যান্স জারির মাধ্যমে সেই সনদ গেজেটেড হ‌ওয়ায় মধ্যযুগীয় বর্বরতা, পশ্চাৎপদ পাকিস্তানী প্রশাসনিক ভাবধারার নীগর থেকে মুক্ত হয়ে সমৃদ্ধি ও প্রগতির পথে চলতে সঠিক প্লাটফর্মে যাত্রা শুরু করল। জুলাই সনদ-২৫ হল একটি প্লাটফর্ম যেখানে সাংবিধানিক বিধিবিধান সমূহ নিখুঁত ভাবে অপারেট করতে পারবে। তারুণ্যের গ্ৰাফিতি ক্যানভাসের পরতে পরতে আগামীর বাংলাদেশের পথচলার রূপরেখা লিপিবদ্ধ হয়ে আছে এই জুলাই জাতীয় সনদে। এক‌ই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হ‌ওয়ার অর্থ‌ই হল জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী দল মৌলিক এজেন্ডা গুলো ঠিক রেখে তাদের নোট আব ভিসেন্ট গুলো বিবেচনায় এনে সাংবিধানিক সংস্কার সমূহ সংসদের মাধ্যমে চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করতে পারবেন। কিন্তু বিজয়ী রাজনৈতিক দল সংকীর্ণ ভোটব্যাঙ্কের জন্যে জুলাই সনদে উল্লেখিত রাষ্ট্রীয় মূলনীতি তে কোনরূপ পরিবর্তন না আনতে পারে সে ব্যাপারে সংসদীয় অর্ডিন্যান্স এ কোন আইনী সুরক্ষা প্রদান করা হয় নি। বিষয়টি নিয়ে সরকারের করনীয় আরো নিখুঁত করতে হবে। তা না হলে সংসদীয় অর্ডিন্যান্স-এ সামান্য ভুলের জন্য ছাত্রজনতার লাল বিপ্লব আদর্শিকভাবে অর্থহীন হয়ে যাবে। আশংকার জায়গায় সচেতন থেকে দলমত নির্বিশেষে আমরা সবাই জুলাই জাতীয় সনদকে সর্বাত্মকভাবে হাঁ সূচকে বিজয় ছিনিয়ে আনতে অঙ্গীকারবদ্ধ হবো। ৭২ এর সংবিধান এ জুলাই ২৪ কে সমন্বয় করলে রাষ্ট্রীয় তিন মূলনীতি হিসেবে যা হ‌ওয়া উচিত সেগুলো হলো- সাম্য ও মানবিকতা, আর্থ-সামাজিকতার উন্নয়ন, বহুমাত্রিক সংষ্কৃতি। প্রস্তাবিত মূলনীতি হিসেবে সামাজিক ন্যায়বিচার রাখাটা পুরোপুরি অর্থহীন। কারণ রাষ্ট্র পরিচালিত হয় সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে যথাযথ আইনের দ্বার এবং উল্লেখিত সংবিধানে যুক্ত হলে মূলনীতিসমূহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে কার্যকর অনুঘটক হিসেবে ভূমিকা পালন করবে। তবে সরকারের উচিত সকল গণতান্ত্রিক ও অধিকার রক্ষার আন্দোলনের সুতিকাগার বাম রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বিত রাষ্ট্রীয় মূলনীতি সমূহ সংবিধানে ধারণ করার প্রস্তাবকে মান্যতা দেয়া যা লাল আন্দোলনের গৌরব গাঁথাকে মহীমান্বিত জুলাই জাতীয় সনদে চির ভাস্বর করে তুলবে। ঢাকার সাবেক মেয়র প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা মেয়র হানিফের প্রস্তাবিত ধর্ম কর্মে স্বাধীনতা ও সম্প্রীতী অনেক আগেই আমাদের সুশীল সমাজের নিকট অগ্ৰহণযোগ্য বিষয় বলে বিবেচিত হয়ে আছে। অত‌এব এটাকে অবশ্যই বাদ দিতে হবে। সরকার প্রস্তাবটি মেনে নিলে আমরা আশা করব বাম গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তি জুলাই সনদে স্বাক্ষর প্রদান করবে। ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ বা তার সমার্থক হিসেবে বহুমাত্রিক সংষ্কৃতি সংবিধানে সংযোজন না করলে ১৯৭১ সালে অর্জিত রাজনৈতিক খোলসে একটি ধর্মের ভিত্তিতে সৃষ্ট পাকিস্তান থেকে ত্রিশ লাখের বহু অধিক শহীদের রক্তের বিনিময়ে বিধ্বংসী ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশের জন্ম নিয়েছে বিধায় বাংলাদেশ রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক কাঠামোতে তার রাষ্ট্রীয় চরিত্রগত স্বকীয়তা হারিয়ে তার অস্তিত্বের শেষ পেরেক ঠুকে দিবে। আবার গণতন্ত্রের লেবাসে লোক দেখানো দেশপ্রেমের ফানুস উড়িয়ে উর্দি পড়া সামরিকতন্ত্রের নিজেদের আখের গোছানোর স্বার্থে কৃত্রিম গোষ্ঠীতন্ত্রের মাধ্যমে গড়ে ওঠা আধিপত্যবাদকে চ্যালেঞ্জ করে জনগণের শাসনতন্ত্র ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সুতরাং সাংস্কৃতিক বহুমাত্রিকতা সংবিধানে যুক্ত হলে তা শিল্প মালিক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য মানোন্নয়নে ও প্রযুক্তি গত উৎকর্ষ সাধনে বিকল্প বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। সেক্ষেত্রে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে মাতৃভাষা ও ইংরেজী পাশাপাশি তৃতীয় ও চতুর্থ ভাষাশিক্ষা হিসেবে স্প্যানিশ, জার্মান ও মান্দারিন ভাষায় ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার উদ্বুদ্ধ করা ও সরকারকে এ খাতে প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানে সংবিধান আইনগতভাবে বাধ্যকতা প্রদান করবে। প্রতিটি স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষায় বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রে অন্তত একাধিক অধ্যায়ে বাংলা হরফে হিন্দী ভাষার ব্যবহার ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার ব্যবস্থা রাখতে হবে। পরিশেষে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের নাম পরিবর্তন করে পিপলস ডেমোক্র্যাটিক অব বাংলাদেশ সংবিধানে প্রযুক্ত করতে হবে।

আদেশ সংক্রান্ত গেজেট জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫।


জুলাই জাতীয় সনদে-২৫ এ প্রযুক্ত হতে যাওয়া স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় বিকেন্দ্রিকরনের সঙ্গে স্বায়ত্তশাসন বাস্তবায়ন দ্বারা আসুন আমরা সিরাজগঞ্জ ও পাবনা বাদে বর্তমান রাজশাহী বিভাগ, রংপুর বিভাগ, জামালপুর ও শেরপুর জেলাসমূহ নিয়ে পুন্ড্র সভ্যতার চারণভূমি পুন্ড্রভূমি বা পুন্ড্রল্যান্ড প্রেসিডেন্সী বিভাগ গঠন করি। পুন্ড্রল্যান্ড এবং একই সঙ্গে বর্তমান ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সহ সিলেট বিভাগকে নিয়ে ‌শক্তিশালী নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতা ও কেন্দ্রীয় শাসনের প্রভাবমুক্ত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আদলে উত্তরবঙ্গ জোন গঠন করতে হবে। আন্তঃদেশীয় সাউথ এশিয়ান আর্থ-সামাজিক করিডোরের অংশ হিসেবে ত্রিপুরা থেকে রেল নেটওয়ার্ক হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মধ্যে দিয়ে কিশোরগঞ্জ হয়ে ময়মনসিংহ জেলায় প্রবেশ করবে। ময়মনসিংহ থেকে জামালপুর এবং মেঘালয় থেকে শেরপুর-জামালপুর হয়ে সারিয়াকান্দির যমূনায় প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণের মাধ্যমে বগুড়ায় প্রবেশ করবে। এরপর নাটোর-রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ হয়ে ভারতের মালদাহ জেলাতে প্রবেশ করবে। সড়কপথের নেটওয়ার্ক‌ও এক‌ইভাবে যুক্ত হতে হবে। প্রস্তাবিত রেল নেটওয়ার্ক নির্মাণ ও বিদ্যমান অংশ সংষ্কার করে ডাবল লাইন ডুয়েল গেজ এ পরিণত করতে হবে। আসুন আগামীতে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে জুলাই জাতীয় সনদ-২৫ কে সর্বাত্মকভাবে হাঁ সূচক ভোটে বিজয়ী করে জুলাই লাল আন্দোলনের সকল স্তরের শহীদের আত্মত্যাগের মহিমাকে সমৃদ্ধি ও প্রগতির পথচলার প্রেরণার উৎস হিসেবে চিরঞ্জীব করে তূলি। রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে আর্থ-সামাজিকতার উন্নয়নকে গ্ৰহণ করা হলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাবিকাঠি হিসেবে আন্তঃদেশীয় কানেক্টিভিটির জন্য গতিশীল ও চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নকশা প্রনয়ণে নির্ভূলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ সমেত অহেতুক সময়ক্ষেপণ বন্ধে সুরক্ষা প্রদান করতে সম্ভব হবে। এতে দেশীয় রাজনীতি কোনক্রমেই বাহ্যিক শক্তির হীন এজেন্ডা বাস্তবায়নের দ্বারা অত্র অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগণের অর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য নিয়োজিত আন্তঃদেশীয় কানেক্টিভিটির সড়ক ও রেল নেটওয়ার্কের কার্যক্রম ব্যহত না করতে পারে উল্লেখিত সাংবিধানিক মূলনীতিসমূহ প্রশাসনযন্ত্রকে হস্তক্ষেপমুক্ত করবে। এতে বৈদেশিক বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগের সংশ্লিষ্ট দেশের সাংবিধানিক সুরক্ষা ও টেকসই আইনি কাঠামোতে বিরুপ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও তাদের উন্নয়ন ও উৎপাদনমূলক কার্যক্রম পরিচালনায় সার্বিক সহায়তা লাভ করবে।

পিন্ডি নয়, ইস্তাম্বুল নয়, আর ত নয় কোন অন্যদেশ।
অন্তরে আমার জুলাই জাতীয় সনদের চেতনা, প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ।।

আসুন আসন্ন গণভোটে জনগণ তান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের নিমিত্তে সর্বাত্মকভাবে জুলাই জাতীয় সনদকে হাঁ সূচক ভোটে বিজয়ী করি এবং সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী অ্যাডভোকেট গোবিন্দ প্রামাণিক সহ বিএমজেপির ব্যানারে সকল প্রার্থীকে দলমত, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের বিপুল ভোটে বিজয়ী করি। বিএমজেপি বিশ্বাস করে বৈষম্য আর শোষণে যাঁতাকলে নির্মমভাবে নিষ্পেষিত ও অধিকার বঞ্চিত সকল জনগণ‌ই মুষ্টিমেয় শোষণকারী জনগণের অংশের কাছে অসহায় ও সংখ্যালঘু। বিএমজেপি সর্বদা সেই প্রবঞ্চিত সংখ্যালঘু মানুষের কন্ঠস্বর হিসেবে আগামীর সংসদে নিরাপদ ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনে বলিষ্ঠ ভূমিকা নিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আগামীতে যেকোনো প্রয়োজনে হাজার হাজার বছর ধরে চলে আসা আবহমান ভৌগলিক চিরন্তন বঙ্গ সংস্কৃতিকে সাংবিধানিক ভাবে সমুন্নত রাখতে বিএমজেপি এদেশের আপামর জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সর্বদা সংগ্ৰাম করে যাবে। এত কিছুর পরও যদি বাঙালি হিন্দুরা গণভোটে 'না' সূচক ভোটে দিলে তাদের মত আত্মকেন্দ্রিক ও মূর্খ জাতি দ্বিতীয় টা হবে না। গণভোটে হাঁ সূচকে গণরায়ে ডঃ ইউনুস স্যার‌ই হিন্দুদের জন্য সারপ্রাইজ দিবেন তা এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। তারেক জিয়া ইতিমধ্যে ন‌ওগাঁ নির্বাচনী জনসভায় ইমাম সাহেব সহ সকল ধর্মের পুরোহিতদের জন্য সরকারী মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করার ঘোষণা করেছেন এবং এবং আগামী ১২ ইং ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে ন‌ওগাঁর পূর্ব ও পশ্চিম অংশের মধ্যে প্রস্তাবিত রেলপথ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি আন্তঃদেশীয় কানেক্টিভিটির জন্য মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে যা বগুড়ার শান্তাহার জংশনকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদ্যমান রাজশাহী-চাঁপাই রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করবে।








এনপিএর পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের বিদ্যমান শাসনকেন্দ্রিক ক্ষমতা-কাঠামো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের পরিবর্তে শাসকগোষ্ঠীর অনুগত করে তুলেছে। এর ফলে জনগণের সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোই ক্ষমতা চর্চা ও সম্পদ আহরণের অংশীদারে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তনে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের অধিকার রক্ষা ও সেবাভিত্তিক কাঠামোয় রূপান্তর করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে প্ল্যাটফর্মটি। এনপিএ তাদের ঘোষণায়— আইন বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের পূর্ণ ও কার্যকর পৃথকীকরণ, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও কেন্দ্রীয় প্রভাবমুক্ত শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গঠনের দাবি জানায়।









 

Post a Comment

Previous Post Next Post