পুন্ড্র সভ্যতা বিকাশে কার্য্যকৃতব্য মার্গ সমূহ।







"প্রস্তাবিত পুন্ড্রল্যান্ড স্বায়ত্তশাসিত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোন"।

পুন্ড্র সভ্যতা বিধৌত বাংলার প্রাচীন রাজধানী বগুড়া সদর উপজেলা থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত চারলেন এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণসহ সারিয়াকান্দি উপজেলা যমুনা নদীর উপর ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন রেল কাম সড়ক সেতু নির্মাণকাজের প্রক্রিয়া শুরু জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে। পুন্ড্র ভৌগলিক সভ্যতায় অন্তর্ভুক্ত উত্তরের জেলাসমূহ বর্তমান জয়পুরহাট, বগুড়া, ওগাঁ, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, জামালপুর, শেরপুর নিয়ে পুন্ড্রনগর বিভাগ গঠন করে এখানকার সমৃদ্ধ সভ্যতাকে পর্যটন শিল্পে ব্যাপক বৈপ্লবিক তেজীভাব আনয়ন করতে হবে। চূড়ান্তভাবে প্রস্তাবিত বগুড়া- সিরাজগঞ্জ ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন রেলপথ নির্মাণকাজের ব্যাপক গতি সঞ্চারিত করতে হবে, আগামী তিন বছরের মধ্যে এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা যায়। প্রস্তাবিত বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে রংপুর-পলাশবাড়ী-গোবিন্দগঞ্জ শিবগঞ্জ জুড়ে দেওয়া প্রয়োজন নেই। বরং অত্র অঞ্চলের আমদানি-রপ্তানিকারকদের ব্যাবসায়িক কার্যক্রমকে সহজতর করতে হিলি স্থলবন্দর থেকে ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন রেলপথ নির্মাণ করে সরাসরি গোবিন্দগঞ্জের উপর দিয়ে মহিমাগঞ্জ বা সোনাতলা রেল ষ্টেশনের সঙ্গে যুক্ত করলে কৃষি বা ক্ষুদ্র শিল্পের সঙ্গে যুক্ত আপাময় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন-মানে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটাতে পারে। বগুড়ার শান্তাহার রেলওয়ে জংশন থেকে গাইবান্ধার বোনারপাড়া রেল জংশন পর্যন্ত রেলপথকে ডুয়েল গেজ ডাবল লাইনে উন্নীতকরণ করতে হবে। বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত প্রস্তাবিত চার লেন এক্সপ্রেসওয়েকে বর্ধিত করে কিশোরগঞ্জ হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়লেন বিশিষ্ট নির্মাণাধীন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে যাতে দারিদ্র্য বিমোচনের স্বার্থে কৃষিজ শিল্পের বাণিজ্যকরণ প্রসারে রংপুর বিভাগের জেলাগুলোর সাথে সিলেটের যাত্রী পণ্য সহজতর অপেক্ষাকৃত কম সময়ে সম্পন্ন করা যায়। অতি দ্রুত জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশকৃত উত্তরবঙ্গ প্রাদেশিক কার্যক্রম আরম্ভের বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপসমূহ নিতে হবে। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে দেশের মানুষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ নিয়ে কখনো গুরুত্ব দেয় না আবার এই প্রাদেশিক ব্যবস্থার বাস্তবায়ন ব্যতীত জাতীয় নির্বাচন দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা উন্নয়নে কোন ভূমিকা রাখতে পারবে না, বরং উত্তরবঙ্গের প্রাদেশিক ব্যবস্থায় সরকারী কার্য্যক্রমসমূহে দেশের মানুষ যত দ্রূত সম্পৃক্ত হবে, তারুণ্যে অংকিত গ্ৰাফিতিতে আত্মনির্ভরতার ভবিষ্যত সমৃদ্ধির হাতছানি আপামর জনগণকে স্বস্তির সঙ্গে দিনযাপন করতে সাহায্য করবে। গাইবান্ধার বালাসীরঘাট- ফুলছড়ির ঘাট এ ব্রম্মপুত্রনদ বরাবর নৌ-করিডোর গঠন করতে হবে পর্যটন শিল্পের ব্যাপক প্রসারের জন্য। আন্ত:দেশীয় ইন্দোপ্যাসিফিক করিডোরের জন্য বগুড়ার সারিয়াকান্দির যমূনা নদীর উপর ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন রেল কাম সড়ক দীর্ঘ সেতু নির্মাণ প্রক্রিয়া জরুরী ভিত্তিতে আরম্ভ করতে হবে। খুলনা বিভাগ, রাজশাহী বিভাগ, রংপুর বিভাগ, টাংগাইল, জামালপুর, শেরপুর জেলাসমূহ মিলে ভারতের রেল ট্রানজিট চূক্তির আওতাধীন ভৌগলিক সীমার মধ্যে ব্যাপক স্বায়ত্ত্বশাসিত পুন্ড্র করিডোর প্রদেশ  বা এর সঙ্গে আরো সংযুক্ত করে ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সিলেট বিভাগ নিয়ে সামগ্ৰিকভাবে উত্তরবঙ্গ প্রদেশ গঠন করা যেতে পারে। ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক রেল ট্রানজিট চুক্তি অন্তর্ভুক্তিমূলক বিমসটেক করিডোর গঠনে নিয়ামক ভূমিকা পালন করে এবং দেশ দুটির দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ইন্দোপ্যাসিফিক সহযোগিতা প্রসারিত করতে একমাত্র পথ হিসেবে কাঠামোগত রূপদান  করতে সমর্থ। । জরুরি ভিত্তিতে বগুড়া সারিয়াকান্দিতে দ্বিতীয় যমুনা সড়ক সেতু রেলসেতু নির্মাণ করে আঞ্চলিক করিডোর সংযোগ গড়ে তুলতে হবে। এই রুটটি চালু হলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনাদিয়া স্থলবন্দর থেকে রেল সড়ক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বগুড়ার প্রস্তাবিত সড়ক-রেলসেতু হয়ে ময়মনসিংহ বিভাগের উপর দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে আগরতলার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের মধ্য্যমেয়াদী সুপারিশমালা সমূহের আলোকে এক বছরে মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একমাত্র প্রাদেশিক পরিষদ গঠন করা হলে সংষ্কার প্রক্রিয়া সমূহ বাস্তবায়নের উল্লেখযোগ্য গতি লাভ করবে বলে তাত্ত্বিকভাবে দৃশ্যমান হবে। জাতীয় সংসদের আসনসংখ্যা হ্রাস-বৃদ্ধি সাধনের ঘটনাকে রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংষ্কারের সংজ্ঞায় অত্যুক্তি করা যায়। প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা গঠনের জন্য পরবর্তী নির্বাচিত সংসদ বা গণভোটের অনুমোদন প্রয়োজন নেই, যেহেতু ব্যাপক স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রাদেশিক পরিষদে আলাদা Legislative council গঠন করতে হচ্ছে না। উত্তরবঙ্গ প্রাদেশিক অঞ্চলে উপজেলা নির্বাচনের নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের নিয়ে প্রাদেশিক সচিবালয় গঠন করতে হবে, যেখানে উপজেলা চেয়ারম্যান গণ প্রাদেশিক সচিবালয়ের সদস্য হিসেবে মর্যাদা পাবেন। তাদের মধ্য থেকে প্রাদেশিক প্রধান প্রশাসক অন্যান্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসক গণ নিয়োগ দিয়ে প্রাদেশিক পরিষদ গঠন করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে আইন বিচার, বিভিন্ন পরিসেবা খাত সমূহ এবং স্থল বন্দর কার্যক্রম ব্যবস্থাপনা- এই তিনটিকে কমন রাখাকে সমর্থনযোগ্য মনে করা যেতে পারে। সর্বোপরি সংশোধন কাঠামোগত সংস্কার এক অর্থে চিন্তা করা কখন সমীচিন নয়। ঢাকার জনসংখ্যার চাপ অর্ধেকে নেমে আনতে এবং একটি পরিচ্ছন্ন স্বাস্থ্যকর পরিবেশের জন্য ব্যাপকভিত্তিক বিকেন্দ্রিকরণের অংশ হিসেবে সিলেট জেলাকে উত্তরবঙ্গ প্রাদেশিক অঞ্চলের রাজধানী হিসেবে গন্য করা যেত পার ।

Plz see the recommendations of public administration reformation committee

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল ও সংবিধানে গণভোটের বিধানের সপক্ষে উচ্চ আদালতের রায়ের কপি প্রদান করা হয়েছে। একটি দেশের তিন মাসব্যাপী নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন সেই দেশের সংবিধিবদ্ধ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলীতে সমন্বয়হীনতা ও আইনী কাঠামোতে দূর্বল প্রয়োগের পরিপ্রেক্ষিতকে প্রকারন্তরে প্রকাশ বলেই প্রতীয়মান হয়। বরং সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোতে সকল পর্যায়ের সীমাবদ্ধতা দূরীকরণে ব্যাপক সংষ্কার প্রক্রিয়া সাধন জরূরী হয়ে পড়েছে। প্রশাসন ব্যাপক লুটপাট ও দুর্বৃত্তপনা সহ নির্বাচিত সরকার নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের দরুন গণ‌অভ্যুথ্যানে পতিত হলে সেই নির্বাচিত সরকারের মেয়াদকাল পর্যন্ত মহামান্য রাষ্ট্রপতি বিদ্যমান সকল স্টেকহোল্ডারদের ঐক্যমতের ভিত্তিতে একপ্রকার ইজিএম হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করতে পারেন। নির্বাচিত সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্বৃত্তায়ন, ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক অস্বচ্ছতা সমূহকে কাঠগড়ায় নিতে হলে তার পরিসমাপ্তি ঘটবে দীর্ঘমেয়াদি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে। সবকিছুকে স্বচ্ছ পরিক্রমায় আনতে গেলে রিসেটের প্রাসঙ্গিকতা প্রকটিত হয়। দীর্ঘ মেয়াদি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যবস্থা দিয়েই নির্বাচিত সরকারের গৃহীত সমস্ত কার্যক্রম ব্যাপক বিশ্লেষণাত্মক পর্যবেক্ষণ দ্বারা মূল্যায়ন সম্পন্ন সম্ভব হয়। অত‌এব সংষ্কার প্রক্রিয়াগুলো গণভোটের মাধ্যমে জনগণের স্থায়ী অনুমোদন করিয়ে শুধুমাত্র তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পরিবর্তে অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রাসঙ্গিকতা প্রতিষ্ঠার জন্য সুপ্রিম কোর্টের অ্যাপিলেট ডিভিশনে সরকার সেই রায়ের সংশোধনী চাইতে রিভিউ আবেদন করতে পারে। এটা সত্যি যে অনিয়মকে দূর করতে রিসেট প্রক্রিয়ার জন্য ওয়ান ইলেভেন ও আট-আট-চব্বিশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়েছে।

বগুড়া, ন‌ওগাঁ, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জামালপুর ও শেরপুর জেলা সমূহ নিয়ে বগুড়া বিভাগ গঠন করতে হবে।

জামালপুর ও শেরপুরের পরিবর্তে কিশোরগঞ্জকে ময়মনসিংহ বিভাগে যুক্ত করার মাধ্যমে পুনঃসন্নিবেশন করতে হবে।

প্রস্তাবিত বগুড়া বিভাগ গঠন করা গেলে বেরিয়ে যাওয়া জেলা গুলোর পরিবর্তে রাজশাহী বিভাগে ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলা সমূহ যুক্ত করার মাধ্যমে পুনঃসন্নিবেশন করতে হবে।

গণভোটের হ্যাঁ বিজয়ী হ‌ওয়ায় জুলাই জাতীয় সনদ-২৫ এ উল্লেখিত সংবিধান সংষ্কারের মাধ্যমে উন্নত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা কাঠামোর আওতায় প্রস্তাবিত বগুড়া বিভাগ, তদৃসংশ্লিষ্ট পুনঃ গঠিতব্য রাজশাহী বিভাগ, রংপুর বিভাগ, ময়মনসিংহ বিভাগ এবং সিলেট বিভাগ সমূহ মিলে বাংলাদেশের একমাত্র নর্দান প্রেসিডেন্সি জোন গঠন করতে হবে।

এই মুহূর্তে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর কোন প্রয়োজন নেই। গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যোগাযোগ উপদেষ্টা ডঃ ফ‌ওজুল কবির এ ব্যাপারে কার্যকর অভিমত দিয়েছেন যে, বর্তমান পদ্মা সেতুতে অত্যন্ত কম সংখ্যক যানবাহন চলাচল করে এবং ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেস‌ওয়েতে সারাদিন রাত যানবাহন চলাচল এমনিতেই খুব থাকে। পাবনা, কুষ্টিয়া-যশোর অঞ্চলের যানবাহন গুলো বর্তমান পদ্মাসেতু ব্যবহার করে খুব কম সময়ে ঢাকায় পৌঁছতে পারে। বরং বগুড়া- জামালপুর করিডোরে দ্বিতীয় ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন রেল কাম সড়ক যমুনা সেতুর নির্মাণকাজ শুরুর সরকারকে অগ্ৰাধিকারযোগ্য প্রকল্প হিসেবে উদ্যোগ নিতে হবে। বগুড়া- ময়মনসিংহ এক্সপ্রেস‌ওয়ের নির্মাণকাজ এক‌ইসঙ্গে শুরুর উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে কিশোরগঞ্জ -ব্রাম্মণবাড়িয়া হয়ে এক‌ই সঙ্গে সিলেট ও কুমিল্লা হয়ে উত্তর অঞ্চলের যানবাহনগুলো ঢাকাকে বাইপাস করে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে যাতায়াত করতে পারবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক করিডোর ছয় অথবা আট লেনে পরিণত করার প্রয়োজন নেই। ময়মনসিংহ -ব্রাম্মণবাড়িয়া রেল নেটওয়ার্ক থেকে একটি লাইন কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের উপর উড়াল রেল পথের মাধ্যমে হবিগঞ্জের বাল্লা অভিমূখি রেল পথের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এক‌ইভাবে কিশোরগঞ্জ -ব্রাম্মণবাড়িয়া মহাসড়ক নেটওয়ার্ক থেকে একটি এক্সপ্রেস‌ওয়ে অষ্টগ্ৰাম প্রস্তাবিত উড়াল সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে হবিগঞ্জের ঢাকা-সিলেট ছয় লেনের মহাসড়কে বাল্লা অভিমূখি যুক্ত সড়ক প্রান্তে সংযুক্ত করার জন্য নির্মাণ করতে হবে। বগুড়ার শান্তাহার জংশন থেকে হবিগঞ্জের বাল্লা পর্যন্ত রেল নেটওয়ার্ক অবশ্যই ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন হিসেবে নির্মাণ করতে হবে। নারায়ণগঞ্জ থেকে রেলের একটি লাইন নরসিংদীতে টঙ্গী-আশুগঞ্জ রেল নেটওয়ার্ক এর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে যাতে অল্প সময়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে মালামাল ও যাত্রী পরিবহন করানো যায়।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সবগুলো আসনেই গণভোটে 'না' জয়যুক্ত হ‌ওয়ায় জুলাই সনদ-২৫ অনুযায়ী সেখানকার স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় স্বায়ত্তশাসন বাস্তবায়নের দাবি আর আইন গত ভিত্তি পাবে না। সামরিক অভিযানের চেয়ে রাজনৈতিক সমাধান বা রেফারেন্ডাম কত কার্যকর তা এই অন্তর্বর্তী সরকার আঙ্গুল দিয়ে আমাদের দেখিয়ে দিল। এই গণভোটে হ্যাঁ সূচক জয়যুক্ত হ‌য়েছে প্রকৃতপক্ষে ৬২ শতাংশ হারে। গত ১৭ ইং নভেম্বর ২৫ এ কার্যকর হ‌ওয়া মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক আদেশ অনুযায়ী গণভোটে 'হ্যাঁ' জয়যূক্ত হ‌ওয়ায় নির্বাচনী গেজেট ইস্যু করার সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও। সম্প্রতি-এই চার মূলনীতিসমূহ পূর্বের সমস্ত প্রতিস্থাপিত করে সংবিধানে যুক্ত হল। আবার এক‌ই সঙ্গে বাংলাদেশ একটি বহু ভাষার, বহু সাংস্কৃতিক দেশে হিসেবে ইতিমধ্যেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে সংযোজন লাভ করেছে। অবশ্যই গণভোটের ফলাফলের এই ফিগার প্রকাশ করে যে বাংলাদেশের আটটি বিভাগসমূহের সববকটিতে গণভোট "হ্যা" সূচকে জয়যুক্ত হয়নি। যে সকল বিভাগে গণভোটে হ্যাঁ সূচক জয়যুক্ত হয়েছে তার ফলাফল গেজেট আকারে অবশ্যই নির্বাচন কমিশনকে জনগণের সম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। কুমিল্লা বিভাগ গঠনের প্রস্তাব বৃহত্তর নোয়াখালীবাসীর তীব্র আপত্তি থাকায় বাস্তবায়ন কঠিন হেতু অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ইতিমধ্যে নাকচ হয়ে গেছে।কেননা জুলাই জাতীয় সনদ-২৫ এ প্রস্তাবিত ফরিদপুর বিভাগে গোপালগঞ্জ জেলার সবগুলো আসনে গণভোটে "না" জয়যুক্ত হ‌ওয়ায় এই অঞ্চলে ফরিদপুর নামের নতুন বিভাগ বাস্তবায়নের কোন প্রয়োজন নেই। নতুন সরকারের উচিত যত দ্রুত সম্ভব উপজেলা পরিষদের নির্বাচন দিয়ে তাদের মধ্যে থেকে বৃহত্তর জেলাভিত্তিক ১৯ জনের উচ্চকক্ষের জন্য সদস্য নির্বাচিত করে নিম্নকক্ষ থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের মাধ্যমে অতিরিক্ত এগারো জন সদস্য নির্বাচিত করে ত্রিশ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠন করা যেতে পারে যেহেতু বিজয়ী সরকারের দল জুলাই জাতীয় সনদ-২৫ বাস্তবায়নে তার নোট অব ডিসেন্ট বাস্তবায়নে সুযোগ পাবেন। নিম্লকক্ষের সংসদ নির্বাচনের প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারের ফলাফলের ভিত্তিতে বা সংসদীয় আসন সংখ্যার ভিত্তিতে গঠিত উচ্চকক্ষকে কখন‌ও গঠন করা যায় না বরং এটা বিশেষ সংরক্ষিত নিম্ন কক্ষের সংযোজন বলা যেতে পারে। উচ্চকক্ষ শুধুমাত্র স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় স্বায়ত্তশাসনের তদারকি এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রদানের জন্য একটি কমিটি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। তবে রাজনীতি যেন অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের হাতে জিম্মি না হয়ে পড়ে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যাপারে নির্বাচিত সরকারকে সাবধানে হাঁটতে হবে, কেননা স্বায়ত্তশাসিত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে তত্ত্বাবধায়কের সরকারের এর প্রাসঙ্গিকতা কতটুকু তার যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ আছে। সরকার ও বিরোধীদল উভয়ের প্রতি জনগণের আর্জি হল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে সংবিধানে যুক্ত না করে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় অবাধ স্বায়ত্তশাসন বাস্তবায়ন দিকে আত্মনিয়োজিত করা, যেহেতু হাইকোর্টের অ্যাপিলেট রিভিউ কোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের রায়ের আবশ্যকতা না দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সংবিধানে যুক্ত করার বিধান দিয়েছে এবং জুলাই জাতীয় সনদ-২৫ সনদের চারটি প্রশ্লেগুলোর যেকোনো একটি বা ক্ষেত্রবিশেষে সবগুলোর উপর জনগণ গণভোটে 'হ্যাঁ' সূচকে জয়যুক্ত করেছে। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী দ্বাদশ সংসদ ভেঙে যায় তখনই যখন ত্রয়োদশ সংসদে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের নির্বাচিত এমপি গণ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে। তাহলে ৫ই আগষ্ট ২০২৪ এর পর থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত দ্বাদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রম পুরোপুরি স্থগিত ছিল। সংসদ অধিবেশন স্থগিত থাকলে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক আদেশ জারি করা বৈধ বরং সংসদ ভেঙে দেওয়া টা ছিল স্রেফ গণ‌অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া জনগণকে শান্ত রাখার রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে সংসদ ভেঙে দেয়ার গেজেট দেশবাসীকে দেখান হয়েছিল যা আদৌ সাংবিধানিক ভাবে যথাযথ নয়। জামাত-এনসিপি জোটের ৭৭ জন সাংসদ সাংবিধানিক সংষ্কার পরিষদের শপথ নিয়েছে বিধায় ন্যূনতম এক তৃতীয়াংশ সাংসদ দ্বারা সাংবিধানিক সংষ্কার পরিষদ গঠন করা হয়ে গেছে। সংসদ নেতা কর্তৃক সাংবিধানিক সংষ্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার এক মাস সময়সীমা অতিক্রম করায় সংষ্কার পরিষদের আরো অন্যান্য সাংসদের সংষ্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার কোন সুযোগ আইনতঃ থাকে না। সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না হলে সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকে ১৮০ কার্যদিবস পরে কোন রাজনৈতিক দলের নোট অব ডিসেন্ট অগ্ৰাহ্য করে জুলাই জাতীয় সনদ-২৫ এর সকল ধারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে যুক্ত হয়ে যাবে। তাই ত্রয়োদশ সংসদে জনগণের রায়ে বিজয়ী রাজনৈতিক দলের জুলাই জাতীয় সনদ-২৫ এ উল্লেখিত নোট অব ডিসেন্টগুলো বাস্তবায়ন করতে গেলে ১৭ ইং নভেম্বর ২০২৫ এ রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক আদেশের উপর কিছু সংশোধনী এনে সংসদের প্রথম অধিবেশনের ত্রিশ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদের তফসিলীতে যুক্ত করে আইনে পরিণত করতে হবে। গণভোটের রায় ইতিমধ্যে রাষ্ট্রপতির সেই সাংবিধানিক আদেশকে সংসদীয় অনুসমর্থন যোগ্য করে তূলেছে। অর্থাৎ সংসদীয় অনুমোদনের মাধ্যমে আনষ্ঠানিকতা ছাড়া আর কিছু এখানে বিকল্প করনীয় নেই। জুলাই জাতীয় সনদ-২৫ সংবিধানে যুক্ত করার সময় আইনতঃ ১৫ ইং সেপ্টেম্বর ১৯৯১ সালের সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তনের গণভোটের রায় কে প্যারামিটার গুলো বিবেচনায় রাখতে হবে।

আমরা সিএএ-র প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী ভারতের ভার্চুয়াল নাগরিকত্বের কার্ড বাংলাদেশে বসে পেতে চাই যাতে ভারতে গিয়ে বসতবাড়ি না কিনতে হয়। আবার বাংলাদেশের বাড়ীঘর না ছেড়ে দিতে হয়। ভারতে ভোটাধিকার, সরকারী চাকুরী ব্যতিরেকে শিক্ষা, চাকরি সহ সকল সুযোগ সুবিধা উপভোগ করতে চাই। এতে ভারতীয় ভার্চুয়াল নাগরিকত্বের কার্ডের জন্য মুসলিম ধর্ম গোষ্ঠীর বিরাট সংখ্যক মানুষ CAA এর তালিকাভুক্ত ধর্ম গুলোতে ধর্মান্তরিত করা যাবে। বাংলাদেশের অমুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা যত বাড়বে তা বিএনপির জন্য ভোট ব্যাংক হয়ে থাকবে। খালেদা জিয়া পরবর্তী তারেক জিয়া নেতৃত্বাধীন বিএনপিতে সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক স্থায়ী আমানত হিসেবে যুক্ত হয়েছে। দেশের মোট জনসংখ্যার যদি ৪০% সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ৭১ এর পূর্ববর্তী সময়ের মতো বিদ্যমান থাকত, তবে তারেক জিয়া নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার টানা পনের বছর ক্ষমতায় থাকার ধারনাপ্রসূতঃ অগ্ৰিম নিশ্চয়তা পেত। 

অংকিত ম্যাপ অনুযায়ী কিশোরগঞ্জের ব্রাহ্মণবাড়িয়া গামী প্রস্তাবিত ডুয়েল গেজ রেল নেটওয়ার্ক হতে একটি লাইন অত্র জেলার মিঠামাইন প্রস্তাবিত হাওড়ের উড়াল রেলপথের মাধ্যমে হবিগঞ্জের ঢাকা-সিলেট রেল কড়িডোরে যুক্ত করতে হবে। এমনিভাবে ময়মনসিংহ-ঢাকা এক্সপ্রেস‌ওয়ে থেকে প্রস্তাবিত ছয় লেনের রাস্তা কিশোরগঞ্জ-ব্রাম্মণবাড়িয়া নেটওয়ার্ক হতে বের হয়ে মিঠামাঈনের প্রস্তাবিত হাওড়ের উড়াল সড়কের উপর দিয়ে হবিগঞ্জের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। হবিগঞ্জ হতে বাল্লা স্থলবন্দরের। মাধ্যমে ইন্ডিয়ার। ত্রিপুরায় বিমসটেক আন্তর্জাতিক রেল ও সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে। হবে। অত্র প্রস্তাবিত পুন্ড্রল্যান্ড অঞ্চলে জুলাই সনদ-২৫ অনুসারে স্বায়ত্তশাসিত আর্থিক সক্ষমতাবৃদ্ধিতে অনুঘটক হিসেবে মংলা সমুদ্র বন্দর কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

বিদ্যমান আটটি বিভাগের সংখ্যা কমিয়ে বিকশিত তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের সুফল ও দেশের বিশাল আর্থিক বাজেটের ঘাটতি পূরণের অপচয় রোধে চারটি প্রশাসনিক জোনে নামিয়ে আনা যেতে পারে। জেলা প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট সকল স্থানীয় সরকারব্যবস্থা স্ব স্ব প্রশাসনিক জোনের আওতাধীন রাখতে হবে। স্ব স্ব প্রশাসনিক জোন সমূহকে আঞ্চলিক ও কেন্দ্রীয় আর্থিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনায় স্বায়ত্তশাসন ক্ষমতা দিতে হবে। প্রশাসনিক জোন বা বিভাগ সংখ্যা আরো কমিয়ে তিনটি করলেই মানানস‌ই হয়। সেক্ষেত্রে প্রস্তাবিত খুলনা জোন ও ঢাকা মেট্রোপলিটন জোন সমন্বিত করে কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক জোন গঠন করা যেতে পারে। দক্ষিণ এশীয় আর্থ-সামাজিক কানেক্টিভিটির নিয়ন্ত্রণ একটি নির্দিষ্ট প্রশাসনিক জোনের নিয়ন্ত্রনাধীনে আনতে হবে, যাতে এর ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে কোনভাবে যে কেউ বাঁধাগ্ৰস্থ না করতে পারে। প্রশাসনিক জোনের ভৌগলিক সীমারেখা আঞ্চলিক কানেক্টিভিটির নকশায় রূপদান করতে হবে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অগ্ৰাধিকার প্রকল্পের একটি সনদ হল সার্ককে পুনরূজ্জীবিত করতে হলে কিছু অকার্যকর সম্মেলন আয়োজনের পরিবর্তে এই বহুমাত্রিক আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে দক্ষিণ এশীয় আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করিডোরে রূপান্তরিত করতে হবে। প্রস্তাবিত নর্দান প্রশাসনিক জোনের ভৌগলিক অঞ্চলে ন্যৃনতম ছয় লেনের এক্সপ্রেস‌ওয়ে, বিশ্বমানের রেল যোগাযোগ, যমুনা নদীর উপর আরেকটা রেল কাম সেতু নির্মাণ বাস্তবায়ন ও সম্পন্ন করতে হবে। সাসেক উন্নয়ন করিডোর বাস্তবায়িত হলে তবেই বাংলাদেশের সব অংশের জনগণ সার্কের সুফল উপভোগ করতে পারবে। অত্র অঞ্চলের পুন্ড্র সভ্যতার বিকাশ ও মাহাত্ম্য কে পেশোয়ার হয়ে আফগানিস্তানের পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে হবে এই ভৌগলিক অঞ্চলে একটি সমৃদ্ধ, উন্নত জীবনমান ও মানবিক সমাজ গঠনের স্বার্থে। যদিও বেশ কয়েকবছর আগে বগুড়া জেলার পুন্ড্র নগরকে সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে সংস্থা কর্তৃক মনোনীত করা হয়েছিল, তৎকালীন সরকারের আমলে প্রশাসন যন্ত্রের একটি দক্ষিণী ধারণাপ্রসূত মস্তিষ্কমনা সংকীর্ণ স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অংশের ব্যাপক উষ্মা প্রকাশ ও অবহেলার কারণে তা আর আলোর মুখ দেখেনি। বগুড়া জেলাকে সাসেকল্যান্ডের সদর দফতর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

পুরাতন চারটি বিভাগের সীমানা বরাবর যে চারটি প্রাদেশিক সরকারব্যবস্থা গঠনের ব্যাপারে সবগুলো দল একমত নয় সেখান থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হল ব্যাপক স্বায়ত্ত্বশাসিত একটিমাত্র উত্তরবঙ্গ প্রদেশ গঠন করা যেতে পারে। সীমিত আয়তনের দেশ হিসেবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংবিধান বাংলাদেশের মতো দূর্বল অর্থনীতির জনবহুল দেশে কখন কাম্য নয়। ৯০-এর গণ আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত সংসদীয় গণতন্ত্র আগের মতোই বিদ্যমান থাকতে হবে। রাষ্টযন্ত্রে দুর্নীতি অব্যবস্থাপনা দূরীকরণে, বিদেশি বিনিয়োগ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে উদ্যোক্তাদের দেশে স্বাগত জানাতে সংবিধানে অবশ্যই বহূত্ববাদকে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে যুক্ত করতে হবে। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ, বগুড়া, জয়পূরহাট, রংপুর বিভাগ, জামালপুর, শেরপুর জেলাসমূহ নিয়ে পুন্ড্র প্রদেশ বা এর সঙ্গে আরো সংযুক্ত করে ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, ব্রাহ্মণবারিয়া, সিলেট বিভাগ নিয়ে সামগ্ৰিকভাবে উত্তরবঙ্গ প্রদেশ গঠন করা যেতে পারে। জরুরি ভিত্তিতে বগুড়া সারিয়াকান্দিতে দ্বিতীয় যমুনা সড়ক সেতু এবং গাইবান্ধার ফূলছঁড়িঘাটে ব্রম্মপুত্র রেলসেতু নির্মাণ করে আঞ্চলিক করিডোর সংযোগ গড়ে তুলতে হবে। এই রুটটি চালু হলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনাদিয়া স্থলবন্দর থেকে রেল সড়ক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বগুড়া বা গাইবান্ধার যথাক্রমে প্রস্তাবিত সড়ক বা রেলসেতু হয়ে ময়মনসিংহ বিভাগের উপর দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে আগরতলার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে।ব্যাপক স্বায়ত্তশাসিত উত্তরবঙ্গ প্রাদেশিক বিষয়ক মন্ত্রী কেবিনেটে যুক্ত করার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাকে কমিয়ে মন্ত্রীপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বিন্দুমাত্র বৃদ্ধির কোন আবশ্যকতা নেই। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাবৃদ্ধির দিকে যাওয়ার দিকে প্রবণতা অর্থ হল ১৫- সেপ্টেম্বর ১৯৯১ সালে গণভোটের মাধ্যমে অর্জিত সংসদীয় সরকার ব্যবস্থাকে প্রতিস্থাপিত করে ধাপে ধাপে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থাকে পুনর্বহাল করার শামিল। অবহেলিত উত্তরের অঞ্চলকে বহুমাত্রিক বিকাশের স্বার্থে ইন্দোপ্যাসিফিক অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। উত্তরবঙ্গ প্রাদেশিক অঞ্চলে সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ভোটের আনুপাতিক হারে এবং দেশের বাদবাকি অংশ হিসেবে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটের নির্বাচনী আসনের সংখ্যানুপাতিক হিসেবে নির্ণয় করতে হবে। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশমালা গুলো মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ে বাস্তবায়নের জন্য প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় আছে। মধ্য মেয়াদী সংস্কারসমূহ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রাদেশিক পরিষদসমূহ গঠন করা হচ্ছে। তার‌ই অংশ হিসেবে বাংলাদেশের ব্যাপক স্বায়ত্তশাসিত উত্তরবঙ্গ প্রদেশ গঠন করার জন্য সরকারের সঙ্গে দেন দরবার করূন। আইনী Article-এর আলোকে জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের সুপারিশমালাসমূহ জাতীয় নির্বাচনের আগেই যথাযথ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতঃ স্বল্প সময়ের মধ্যেই অন্ততঃ মধ্য মেয়াদী সংস্কারসমূহ বাস্তবায়ন করার বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সূযোগ থাকছে। পরিপ্রেক্ষিত মূল্যায়নে দেখা যায় যে, পরিপ্রেক্ষিত মূল্যায়নে দেখা যায় যে,। গত ০৭-ই জানুয়ারি ২০২৪ ইং তারিখের অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদের আওতাধীন অষ্টেপৃষ্ঠে আবদ্ধ ফ্যাসিবাদী ও লুটপাটকারী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণ‌অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পতিত সরকার ৭ মাস মেয়াদকাল অতিক্রম করেছে, সেই সংসদীয় ৫ বছরের সময়কালের মধ্যে সংস্কারের নিমিত্তে জন আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আজ থেকে আরো ৩ বছর শাসন করার আইনতঃ অধিকার আছে, যেহেতু বর্তমান সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বলে কোন কিছুর অস্তিত্ব নেই, যার মেয়াদ হতো তিন মাস। উপরন্তূ বর্তমানে সংবিধানের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, সংসদ ভেঙ্গে দেওয়া হলেও পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সাংসদরা শপথ নেয়ার পর তার বিলুপ্তি কার্যকর হয়ে যাবে। আবার ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী যদি পদত্যাগ না করে থাকেন, মন্ত্রিপরিষদের পরিবর্তে উপদেষ্টা মণ্ডলীর সমন্বয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই সংসদের পূর্ণ মেয়াদে দেশ পরিচালনা করার যথাযথ ক্ষমতা রাখেন।দেশের সর্বত্র অংশের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ ও জাতীয় আর্থিক খাতে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে সংবিধান সংস্কার কমিশনের উল্লেখিত রিপোর্টার ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় ব্যাপক স্বায়ত্তশাসনের জন্য জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন করাকে সর্বোত্তম উপায় হিসেবে মান্যতা দিয়েছে। তবে চারটি প্রদেশ গঠন করতে না পারলে সমপরিমাণ অংশ নিয়ে একটি ব্য।পক স্বায়ত্তশাসিত প্রদেশ ও একটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল গঠন করতে হবে। এর জন্য দরকার বর্তমান সরকার ঘোষিত জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের মধ্যমেয়াদী সংস্কার সুপারিশমালার আলোকে আমাদের আকাঙ্ক্ষিত উত্তরবঙ্গ প্রদেশ গঠন করতে হবে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে সেকেন্ড রিপাবলিক কাঠামোতে সার্থক রূপদান করা সম্ভব হবে। সেই উত্তরবংগ প্রদেশ সমাজতন্ত্রকে ধারন করে কৃষক ও মধ্যবিত্ত সমাজের জন্য একটি আদর্শ জন অঞ্চল হয়ে উঠবে। এই কমিশনের রিপোর্ট মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ের সংস্কার কমিশন সাইটে প্রকাশিত যেহেতু জনপ্রশাসন সংষ্কার কমিশনের রিপোর্ট রাজনৈতিক বিষয়াবলীর সঙ্গে ঐক্যমতের ভিত্তিতে সম্পর্কভুক্ত নয়। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ের অনুমোদনপ্রাপ্ত অন্ততঃপক্ষো জনপ্রশাসন সংষ্কার কমিশনের স্বল্পমেয়াদী ও মধ্য্যমেয়াদী সুপারিশমালা সমূহ পরবর্তী জুন-২৬ -এর মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য। জুলাই-আগষ্ট-২৪ লাল বিপ্লবে আমাদের তরুণদের অকাতরে ধেলে দেওয়া বুকের তাজা রক্তস্নাত রাষ্ট্রীয় বেদির প্রতি সম্মান রেখে এবং এদেশের সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি নির্ভর যুব সমাজের অন্তরে লালিত চেতনার প্রতি লক্ষ্য রেখে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন কর্তৃক দাখিলকৃত প্রস্তাবিত বাংলাদেশের নতুন নামকরন্ পিপলস ওয়েল ফেয়ার স্টেট অব বাংলাদেশ এর প্রতি সাধুবাদ জানাই এবং আরেকটু সংশোধন করলে এর নাম হতে হবে ইন্ডোপ্যাসিফিক স্টেট অব বাংলাদেশ বা ডেমোক্র্যাটিক স্টেট অব বাংলাদেশ। যেহেতু বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগর ও প্রশান্তমহাসাগরের সংযোগকারী ভৌগলিক অঞ্চলের কেন্দ্রস্থলে অবস্থান করে, তাই ইন্ডোপ্যাসিফিক অঞ্চলে বহুমাত্রিক আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রদানের মার্গ দর্শনে সর্বোপরি সামগ্ৰিকভাবে আমাদের তারূণ্য নির্ভর মেধা সম্পদ নেতৃত্ব প্রদানে উদগ্ৰীব হয়ে আছে। নর্থবেঙ্গল প্রদেশটি অবশ্যই সার্বিক বিকাশের স্বার্থে আন্তঃদেশীয় বিমসটেক অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে পরিনত করতে হবে।


১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। কিন্তু পাকিস্তানী কায়দায় গত ৫৪ বছর ধরে চলে আসা পুরাতন, অচলায়তন এবং ঘুনধরা পদ্ধতিতর প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়ে আসছিল। আমাদের জাতীয় জীবনের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে ওতোপ্রত ভাবে প্রযুক্ত নীতিগত প্রশাসনিক সনদ বা পদ্ধতি কখনো প্রনয়ণ করা হয় নি। আজকে গোটা জাতি মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সংসদীয় অর্ডিন্যান্স জারির মাধ্যমে সেই সনদ গেজেটেড হ‌ওয়ায় মধ্যযুগীয় বর্বরতা, পশ্চাৎপদ পাকিস্তানী প্রশাসনিক ভাবধারার নীগর থেকে মুক্ত হয়ে সমৃদ্ধি ও প্রগতির পথে চলতে সঠিক প্লাটফর্মে যাত্রা শুরু করল। জুলাই সনদ-২৫ হল একটি প্লাটফর্ম যেখানে সাংবিধানিক বিধিবিধান সমূহ নিখুঁত ভাবে অপারেট করতে পারবে। তারুণ্যের গ্ৰাফিতি ক্যানভাসের পরতে পরতে আগামীর বাংলাদেশের পথচলার রূপরেখা লিপিবদ্ধ হয়ে আছে এই জুলাই জাতীয় সনদে। এক‌ই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হ‌ওয়ার অর্থ‌ই হল জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী দল মৌলিক এজেন্ডা গুলো ঠিক রেখে তাদের নোট আব ভিসেন্ট গুলো বিবেচনায় এনে সাংবিধানিক সংস্কার সমূহ সংসদের মাধ্যমে চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করতে পারবেন। কিন্তু বিজয়ী রাজনৈতিক দল সংকীর্ণ ভোটব্যাঙ্কের জন্যে জুলাই সনদে উল্লেখিত রাষ্ট্রীয় মূলনীতি তে কোনরূপ পরিবর্তন না আনতে পারে সে ব্যাপারে সংসদীয় অর্ডিন্যান্স এ কোন আইনী সুরক্ষা প্রদান করা হয় নি। বিষয়টি নিয়ে সরকারের করনীয় আরো নিখুঁত করতে হবে। তা না হলে সংসদীয় অর্ডিন্যান্স-এ সামান্য ভুলের জন্য ছাত্রজনতার লাল বিপ্লব আদর্শিকভাবে অর্থহীন হয়ে যাবে। আশংকার জায়গায় সচেতন থেকে দলমত নির্বিশেষে আমরা সবাই জুলাই জাতীয় সনদকে সর্বাত্মকভাবে হাঁ সূচকে বিজয় ছিনিয়ে আনতে অঙ্গীকারবদ্ধ হবো। ৭২ এর সংবিধান ও জুলাই ২৪ কে সমন্বয় করলে রাষ্ট্রীয় তিন মূলনীতি হিসেবে যা হ‌ওয়া উচিত সেগুলো হলো- সাম্য ও মানবিকতা, আর্থ-সামাজিকতার উন্নয়ন, বহুমাত্রিক সংষ্কৃতি। প্রস্তাবিত মূলনীতি হিসেবে সামাজিক ন্যায়বিচার রাখাটা পুরোপুরি অর্থহীন। কারণ রাষ্ট্র পরিচালিত হয় সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে যথাযথ আইনের দ্বার এবং উল্লেখিত সংবিধানে যুক্ত হলে মূলনীতিসমূহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে কার্যকর অনুঘটক হিসেবে ভূমিকা পালন করবে। তবে সরকারের উচিত সকল গণতান্ত্রিক ও অধিকার রক্ষার আন্দোলনের সুতিকাগার বাম রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বিত রাষ্ট্রীয় মূলনীতি সমূহ সংবিধানে ধারণ করার প্রস্তাবকে মান্যতা দেয়া যা লাল আন্দোলনের গৌরব গাঁথাকে মহীমান্বিত জুলাই জাতীয় সনদে চির ভাস্বর করে তুলবে। ঢাকার সাবেক মেয়র প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা মেয়র হানিফের প্রস্তাবিত ধর্ম কর্মে স্বাধীনতা ও সম্প্রীতী অনেক আগেই আমাদের সুশীল সমাজের নিকট অগ্ৰহণযোগ্য বিষয় বলে বিবেচিত হয়ে আছে। অত‌এব এটাকে অবশ্যই বাদ দিতে হবে। সরকার প্রস্তখবটি মেনে নিলে আমরা আশা করব বাম গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তি জুলাই সনদে স্বাক্ষর প্রদান করবে। ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ বা তার সমার্থক হিসেবে বহুমাত্রিক সংষ্কৃতি সংবিধানে সংযোজন না করলে ১৯৭১ সালে অর্জিত রাজনৈতিক খোলসে একটি ধর্মের ভিত্তিতে সৃষ্ট পাকিস্তান থেকে ত্রিশ লাখের বহু অধিক শহীদের রক্তের বিনিময়ে বিধ্বংসী ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশের জন্ম নিয়েছে বিধায় বাংলাদেশ রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক কাঠামোতে তার রাষ্ট্রীয় চরিত্রগত স্বকীয়তা হারিয়ে তার অস্তিত্বের শেষ পেরেক ঠুকে দিবে। আবার বহুমাত্রিক সংষ্কৃতি সংবিধানে যুক্ত হলে তা শিল্প মালিক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য মানোন্নয়নে ও প্রযুক্তি গত উৎকর্ষ সাধনে বিকল্প বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। সেক্ষেত্রে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে মাতৃভাষা ও ইংরেজী পাশাপাশি তৃতীয় ও চতুর্থ ভাষাশিক্ষা হিসেবে স্প্যানিশ, জার্মান ও মান্দারিন ভাষায় ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার উদ্বুদ্ধ করা ও সরকারকে এ খাতে প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানে সংবিধান আইনগতভাবে বাধ্যকতা প্রদান করবে। প্রতিটি স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষায় বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রে অন্তত একাধিক অধ্যায়ে বাংলা হরফে হিন্দী ভাষার ব্যবহার ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার ব্যবস্থা রাখতে হবে।পরিশেষে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের নাম পরিবর্তন করে পিপলস ডেমোক্র্যাটিক অব বাংলাদেশ সংবিধানে প্রযুক্ত করতে হবে।

Constitutional power for July sonod-2025

জুলাই জাতীয় সনদে-২৫ এ প্রযুক্ত হতে যাওয়া স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় বিকেন্দ্রিকরনের সঙ্গে স্বায়ত্তশাসন বাস্তবায়ন দ্বারা আসুন আমরা সিরাজগঞ্জ ও পাবনা বাদে বর্তমান রাজশাহী বিভাগ, রংপুর বিভাগ, জামালপুর ও শেরপুর জেলাসমূহ নিয়ে পুন্ড্র সভ্যতার চারণভূমি পুন্ড্রভূমি বা পুন্ড্রল্যান্ড প্রেসিডেন্সী বিভাগ গঠন করি। পুন্ড্রল্যান্ড এবং একই সঙ্গে বর্তমান ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সহ সিলেট বিভাগকে নিয়ে ‌শক্তিশালী নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতা ও কেন্দ্রীয় শাসনের প্রভাবমুক্ত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আদলে উত্তরবঙ্গ জোন গঠন করতে হবে। আন্তঃদেশীয় সাউথ এশিয়ান আর্থ-সামাজিক করিডোরের অংশ হিসেবে ত্রিপুরা থেকে রেল নেটওয়ার্ক হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মধ্যে দিয়ে কিশোরগঞ্জ হয়ে ময়মনসিংহ জেলায় প্রবেশ করবে। ময়মনসিংহ থেকে জামালপুর এবং মেঘালয় থেকে শেরপুর-জামালপুর হয়ে সারিয়াকান্দির যমূনায় প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণের মাধ্যমে বগুড়ায় প্রবেশ করবে। এরপর নাটোর-রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ হয়ে ভারতের মালদাহ জেলাতে প্রবেশ করবে। সড়কপথের নেটওয়ার্ক‌ও এক‌ইভাবে যুক্ত হতে হবে। প্রস্তাবিত রেল নেটওয়ার্ক নির্মাণ ও বিদ্যমান অংশ সংষ্কার করে ডাবল লাইন ডুয়েল গেজ এ পরিণত করতে হবে। আসুন আগামীতে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে জুলাই জাতীয় সনদ-২৫ কে সর্বাত্মকভাবে হাঁ সূচক ভোটে বিজয়ী করে জুলাই লাল আন্দোলনের সকল স্তরের শহীদের আত্মত্যাগের মহিমাকে সমৃদ্ধি ও প্রগতির পথচলার প্রেরণার উৎস হিসেবে চিরঞ্জীব করে তূলি। রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে আর্থ-সামাজিকতার উন্নয়নকে গ্ৰহণ করা হলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাবিকাঠি হিসেবে আন্তঃদেশীয় কানেক্টিভিটির জন্য গতিশীল ও চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নকশা প্রনয়ণে নির্ভূলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ সমেত অহেতুক সময়ক্ষেপণ বন্ধে সুরক্ষা প্রদান করতে সম্ভব হবে। এতে দেশীয় রাজনীতি কোনক্রমেই বাহ্যিক শক্তির হীন এজেন্ডা বাস্তবায়নের দ্বারা অত্র অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগণের অর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য নিয়োজিত আন্তঃদেশীয় কানেক্টিভিটির সড়ক ও রেল নেটওয়ার্কের কার্যক্রম ব্যহত না করতে পারে উল্লেখিত সাংবিধানিক মূলনীতিসমূহ প্রশাসনযন্ত্রকে হস্তক্ষেপমুক্ত করবে। এতে বৈদেশিক বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগের সংশ্লিষ্ট দেশের সাংবিধানিক সুরক্ষা ও টেকসই আইনি কাঠামোতে বিরুপ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও তাদের উন্নয়ন ও উৎপাদনমূলক কার্যক্রম পরিচালনায় সার্বিক সহায়তা লাভ করবে।

পিন্ডি নয়, ইস্তাম্বুল নয়, আর ত নয় কোন অন্যদেশ।
অন্তরে আমার জুলাই জাতীয় সনদের চেতনা, প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ।।

 টাংগাইলে যমুনা পূর্ব রেল স্টেশন থেকে ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন রেল নেটওয়ার্ক ভূয়াপুর হয়ে ঘাটাইল-মধুপুর অতিক্রম করে সরাসরি গফরগাঁও পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল নেটওয়ার্ক পর্যন্ত যুক্ত করতে হবে যাতে অত্র অঞ্চলের লোকজন দ্রততম সময়ে প্রতিদিন ঢাকায় প্রবেশ করে চাকুরী, ব্যবসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সম্পন্ন করতে পারে এবং পুনরায় যার যার গন্তব্যে ফিরে যেতে পারে। এক‌ই উদ্দেশ্যে টাংগাইলের মীর্জাপুর থেকে সখীপুর হয়ে ভালুকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক নেটওয়ার্ক পর্যন্ত ছয় লেনেরএক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করতে হবে। এই মেগা প্রজেক্টকে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করিডোর হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে যাতে ঢাকা শহরের উপর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ কমানো যায় সরকারকে অবশ্যই অগ্ৰাধিকারপ্রাপ্তব্য প্রকল্প হিসেবে দ্রুত শুরু করতে আর্জি জানাচ্ছি। উপরোক্ত সড়ক ও রেলপথ নেট‌ওয়ার্ক সমূহকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পর্যন্ত সম্প্রসারণ করলে সেটা সবুজ ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে পরিণত হবে এবং এখান থেকে উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উন্নয়নে মাইলফলক হিসেবে ভূমিকা পালন করবে। সেই সাথে উত্তরবঙ্গবাসীদের আগামীর সরকার গঠনে নিম্নোক্ত শ্লোগানকে অনুসরণ করতে অনুরোধ করি তা হল-

দলকে দিয়ে বিবেচনা নয়, মতকে অনুসরণ করি।
দেশের উন্নতির ধারাবাহিকতায় একজন স্বপ্নের রাষ্ট্রনায়ককে জানি।।
জাতীয় অগ্রগতিতে যিনি দেখাবেন উন্নয়নের দিশা।
এইবার দরকার, তারেক জিয়ার সরকার।।

জুলাই সনদ-২৫ এ স্বাক্ষরকারী সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে জানাই আন্তরিক অভিবাদন। জুলাই সনদ-২৫-এ বিশেষায়িত দিক হল চিরাচরিত স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছে স্বায়ত্ত্বশাসন যাদের স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নে থাকবে নিজস্ব আর্থিক ব্যবস্থাপনা। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো ব্যতীত যেকোন প্রকল্পের স্থানীয় বাজেটের আর্থিক সংক্যূলানে ঘাটতি দেখা দিলে তা পূরণে উচ্চকক্ষকে অবহিত করতে হবে। মূলনীতি হিসেবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচারের সঙ্গে সংবিধানে বাংলাদেশকে বহুজাতিক, ধর্ম, ভাষার দেশ হিসেবে যুক্ত করার বিধান দিয়ে প্রকারান্তরে বাংলাদেশকে বহুত্ববাদের দেশ হিসেবে স্বীকার করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় স্বায়ত্ত্বশাসন দ্বারা একটি স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় নর্দান প্রশাসনিক জোন গঠন করার সূযোগ থাকছে। বর্তমান সংবিধানে গণভোটের বিধান না থাকায় বিদ্যমান সংসদের অধীনে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শপথ নেওয়ার ফলে স্থানীয় সরকারে ব্যবস্থায় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা বৃহত্তর উনিশটি জেলাসমূহ হতে নির্বাচিত প্রতিনিধিসমূহ ও বর্তমান রাষ্ট্রপতির দ্বারা মনোনীত ঐক্যমত্য কমিশনের সকল সদস্যসমূহকে স্বতন্ত্র্য উচ্চকক্ষ হিসেবে প্রস্তাবিত জাতীয় পরিষদ অথবা জাতীয় সংস্কার পরিষদ গঠন করে আগামী সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তূতিকাজ আরম্ভ করতে হবে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবশ্যই জুলাই সনদ-২৫-এর নীতিমালা অনুযায়ী সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমতের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে আয়োজন করতে হবে। বর্তমান সরকারের অধীনে স্বতন্ত্র্য উচ্চকক্ষ দ্বারা জুলাই সনদ-২৫ এর সকল ধারা সমূহকে অনুমোদন করে পরবর্তী নির্বাচিত সংসদ দ্বারা চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেয়া যেতে পারে। ৫ বছর মেয়াদি স্বতন্ত্র্য উচ্চকক্ষ কখনো সংসদের বহাল থাকা বা না থাকার উপর নির্ভর করে না। নির্বাচন অনুষ্ঠানের পদ্ধতি নিয়ে বিবদমান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যমত্য প্রতিষ্টার একমাত্র পথ হল দেশের সমান সংখ্যক অংশ নিয়ে স্বায়ত্ত্বশাসিত স্থানীয় সরকারব্যবস্থার অঞ্চলে বা জোনে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন এবং কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চলে আসন ভিত্তিক বা প্রথাগত পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজন করতে। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর ভোটের আনুপাতিক হারে প্রাপ্ত রাজনৈতিক দলগুলোর তাদের মনোনীত সাংসদদের তালিকা নির্বাচন কমিশন কমিশনে পাঠাবেন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য। নর্দান জোনে ঢাকাকে এড়িয়ে জেলাসমূহের মধ্যে পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করে না এমন উন্নত মহাসড়ক ও রেল নেটওয়ার্কের নকশা অনুযায়ী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কে সিলেট বিভাগের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। কারন এখন থেকে এক‌ই জোন ভিত্তিক বিভাগের এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যেতে অন্য জোনের কোন বিভাগের নির্দিষ্ট জেলার সড়ক বা রেলপথ ব্যবহার করার যোগাযোগ ব্যবস্থা পলিসি রদ করতে হবে। যদিও সংবিধান সংস্কার সংশোধন করতে বর্তমান সংবিধানে গণভোটের বিধান নেই, তদুপরি রাষ্ট্র এক কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থা থেকে স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় স্বায়ত্তশাসন প্রদানের মাধ্যমে স্বায়ত্তশাসিত বিকেন্দ্রীকরণের কাঠামো রূপ লাভ করতে যাচ্ছে বিধায় এই সাংবিধানিক সংশোধন সংস্কার ফরম্যাট লাভ করে রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য বর্তমান সংবিধান সংস্কারের জন্য গণভোটের আয়োজনকে নিষেধের কথা উল্লেখ করে না। গণভোটের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাতীয় জুলাই সনদ-২৫ বাস্তবায়নের পথে অনেকাংশ‌ই চলে যাবে। এর ঠিক আগে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গ উপজেলা সদর দফতর গঠন করে উত্তরবঙ্গ স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় স্বায়ত্তশাসন যুক্ত করতে হবে। এরপর স্বতন্ত্র উচ্চকক্ষ গঠন করতে হবে যা সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করবে। অতঃপর জুলাই সনদ অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচন মিশ্র পদ্ধতিতে দিতে হবে। অর্থাৎ স্বায়ত্তশাসিত উত্তরবঙ্গ জোনে পিআর পদ্ধতিতে এবং দেশের বাকি অংশে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে আসন ভিত্তিক ফলাফলের উপর জাতীয় নির্বাচন হতে হবে। পরিশেষে যে রাজনৈতিক দলগুলো এখনো জুলাই সনদের স্বাক্ষর করে নি, পৃথক সময়ে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে তাদের আপত্তি নৈতিকভাবে গ্ৰহণযোগ্যতা পেতে পারে না।





চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ‌, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর জেলা সমূহ, রাজশাহী বিভাগ, রংপুর বিভাগ, টাংগাইল জেলা সমেত ময়মনসিংহ বিভাগ ও সিলেট বিভাগ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মিলে ব্যাপক স্বায়ত্তশাসিত নর্দান প্রশাসনিক জোন গড়ে তুলতে হবে। বর্তমান খুলনা বিভাগ ও প্রস্তাবিত ফরিদপুর বিভাগ মিলে খুলনা প্রশাসনিক জোন, বরিশাল বিভাগ, প্রস্তাবিত কুমিল্লা বিভাগ ও চট্টগ্রাম ও বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার মিলে বিএনসিসি প্রশাসনিক জোন গঠন করা যেতে পারে। দেশের বাদবাকি অংশে নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন প্রশাসনিক জোন গঠন করা যেতে পারে। এভাবে বিদ্যমান আটটি বিভাগের সংখ্যা কমিয়ে বিকশিত তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের সুফল ও দেশের বিশাল আর্থিক বাজেটের ঘাটতি পূরণের অপচয় রোধে চারটি প্রশাসনিক জোনে নামিয়ে আনা যেতে পারে। জেলা প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট সকল স্থানীয় সরকারব্যবস্থা স্ব স্ব প্রশাসনিক জোনের আওতাধীন রাখতে হবে। স্ব স্ব প্রশাসনিক জোন সমূহকে আঞ্চলিক ও কেন্দ্রীয় আর্থিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনায় স্বায়ত্তশাসন ক্ষমতা দিতে হবে। প্রশাসনিক জোন বা বিভাগ সংখ্যা আরো কমিয়ে তিনটি করলেই মানানস‌ই হয়। সেক্ষেত্রে প্রস্তাবিত খুলনা জোন ও ঢাকা মেট্রোপলিটন জোন সমন্বিত করে কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক জোন গঠন করা যেতে পারে। দক্ষিণ এশীয় আর্থ-সামাজিক কানেক্টিভিটির নিয়ন্ত্রণ একটি নির্দিষ্ট প্রশাসনিক জোনের নিয়ন্ত্রনাধীনে আনতে হবে, যাতে এর ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে কোনভাবে যে কেউ বাঁধাগ্ৰস্থ না করতে পারে। প্রশাসনিক জোনের ভৌগলিক সীমারেখা আঞ্চলিক কানেক্টিভিটির নকশায় রূপদান করতে হবে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অগ্ৰাধিকার প্রকল্পের একটি সনদ হল সার্ককে পুনরূজ্জীবিত করতে হলে কিছু অকার্যকর সম্মেলন আয়োজনের পরিবর্তে এই বহুমাত্রিক আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে দক্ষিণ এশীয় আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করিডোরে রূপান্তরিত করতে হবে। প্রস্তাবিত নর্দান প্রশাসনিক জোনের ভৌগলিক অঞ্চলে ন্যৃনতম ছয় লেনের এক্সপ্রেস‌ওয়ে, বিশ্বমানের রেল যোগাযোগ, যমুনা নদীর উপর আরেকটা রেল কাম সেতু নির্মাণ বাস্তবায়ন ও সম্পন্ন করতে হবে। সাসেক উন্নয়ন করিডোর বাস্তবায়িত হলে তবেই বাংলাদেশের সব অংশের জনগণ সার্কের সুফল উপভোগ করতে পারবে। অত্র অঞ্চলের পুন্ড্র সভ্যতার বিকাশ ও মাহাত্ম্য কে পেশোয়ার হয়ে আফগানিস্তানের পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে হবে এই ভৌগলিক অঞ্চলে একটি সমৃদ্ধ, উন্নত জীবনমান ও মানবিক সমাজ গঠনের স্বার্থে। যদিও বেশ কয়েকবছর আগে বগুড়া জেলার পুন্ড্র নগরকে সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে সংস্থা কর্তৃক মনোনীত করা হয়েছিল, তৎকালীন সরকারের আমলে প্রশাসন যন্ত্রের একটি দক্ষিণী ধারণাপ্রসূত মস্তিষ্কমনা সংকীর্ণ স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অংশের ব্যাপক উষ্মা প্রকাশ ও অবহেলার কারণে তা আর আলোর মুখ দেখেনি। বগুড়া জেলাকে সাসেকল্যান্ডের সদর দফতর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী আমাদের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়ের নিকট সাক্ষাৎ করতে গেলে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা দু'দেশের সম্পর্ককে টেকস‌ই ও বহুমূখী পর্যায়ে নিয়ে যেতে সার্ককে কার্যকরের তাগিদ দেন। এখানে আমার সংশোধিত মতামত যা নোট অব ডিসেন্ট হিসেবে গন্য করতে হবে। সার্ককে আপাতত বাদ রেখে বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গ জোন, ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, ভুটান, আফগানিস্তান মিলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন মডেলের এক আন্তঃদেশীয় জোট South Asian socio & economic cooperation (SASEC) এর আওতায় আনতে হবে। যা ভৌগলিকভাবে Sasecland (সাসেকল্যান্ড) নামে অভিহিত হবে। এর নিজস্ব আর্থিক উন্নয়ন ব্যবস্থা রাখা ও অভিন্ন মুদ্রার প্রচলন করতে হবে। ডি-ডলারাইজেশনে এর জন্য ও ডলারের বিপরীতে টাকার মান বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ নেয়ার কোন বিকল্প নেই। ইংরেজিতে বগুড়া জেলার বিকৃত নাম Bogura তে ফিরিয়ে আনার একটি মহল জোড় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। Bogura যা বাংলাতে বগুড়া তার আভিধানিক অর্থ হল মায়ার ফাঁদ। আর Bogura হলেন একজন প্রশাসন যার সমসাময়িক পুন্ড্রনগরীর বহিরাগত শাসনকর্তাদের আগমনে এদেশীয় পরাজিত রাজার একজন রানী তার সম্ভম রক্ষার্থে করতোয়া নদীতে আত্মহ্নতি দিয়েছিলেন, যা আজও অত্র অঞ্চলের লোকমূখে করুণ কাহিনী হিসেবে সঞ্চারিত হয়ে আসছে। বগুড়া জেলার নাম Bogura যে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাকে তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জ্ঞাপন করছি।




 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 



Post a Comment

Previous Post Next Post